• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 21 September, 2026

প্রয়াত ‘মর্জিনা’, ক্যানসারে ভুগছিলেন, অবশেষে জীবন-যুদ্ধের লড়াইয়ে হার মানলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়

মিষ্টি মুখ, স্বচ্ছন্দ অভিনয় এবং চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে বদলে ফেলার দক্ষতা, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অভিনয়জগতে নিজের জায়গা তৈরি করে ফেলেছিলেন

প্রয়াত ‘মর্জিনা’, ক্যানসারে ভুগছিলেন, অবশেষে জীবন-যুদ্ধের লড়াইয়ে হার মানলেন মিঠু মুখোপাধ্যায়

Image: SNS

প্রয়াত স্বর্ণালী যুগের অভিনেত্রী মিঠু মুখোপাধ্যায় (Mithu Mukherjee)। মারণ রোগ তাঁর শরীরে থাবা বসিয়েছিল। গত এক বছর ধরে ক্যানসারে সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছিলেন। অবশেষ সেই লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটল। রবিবার রাতে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (Mithu Mukherjee)। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। মুম্বাইতেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই তিনি বসবাস করছিলেন। দক্ষিণ কলকাতায় তাঁর একটি বাড়িও ছিল। কয়েক বছর আগে সেটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত রবিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।

সাতের দশক থেকে বাংলা সিনেমায় তাঁর পথ চলা শুরু। মিষ্টি মুখ, স্বচ্ছন্দ অভিনয় এবং চরিত্র অনুযায়ী নিজেকে বদলে ফেলার দক্ষতা, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অভিনয়জগতে নিজের জায়গা তৈরি করে ফেলেছিলেন। বাংলা ছবির পাশাপাশি হিন্দি ও ওড়িয়া ছবিতেও অভিনয় করেছিলেন তিনি। সাতের দশকের গোড়া থেকে নয়ের দশক পর্যন্ত দাপটের সঙ্গে তিনি অভিনয় করেছিলেন।

আরও পড়ুন: রণবীর-দীপিকার ঘরে ফের খুশির হাওয়া, দ্বিতীয়বার মা হলেন দীপিকা পাড়ুকোন

১৯৭১ সালে চিত্র বসুর ‘শেষ পর্ব’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় তাঁর পথ চলা শুরু হয়। ছবিতে তাঁর (Mithu Mukherjee) বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন সমিত ভঞ্জ। তবে প্রথম ছবিতেই তিনি সাফল্য পাননি। ১৯৭৩ সালে দীনেন গুপ্তের ‘মর্জিনা আবদুল্লা’ তাঁকে জনপ্রিয়তা এনে দেয়। আলিবাবার পরিচালিকা ‘মর্জিনা’র চরিত্রে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল। ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন দেবরাজ রায়।

এরপর তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক ছবিতে অভিনয় করেছেন। আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ‘নিশিকন্যায়’ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে তাঁকে দেখা যায়। ১৯৭৪ সালের ‘মৌচাক’ তাঁকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। নীপার চরিত্রে মিঠু মুখোপাধ্যায় এবং সিতেশের ভূমিকায় রঞ্জিত মল্লিকের জুটি দর্শকের মনে দাগ কেটে যায়। ছবিতে তাঁদের সঙ্গে ছিলেন উত্তমকুমার, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, অনুপকুমার, চিন্ময় রায় এবং রবি ঘোষ।

‘মৌচাক’-এর পর রঞ্জিত মল্লিকের সঙ্গে ‘স্বয়ংসিদ্ধা’ ছবিতে আরও একবার জুটি বাঁধতে দেখা যায়। বাংলা ছবির পাশাপাশি এই সময়েই হিন্দি সিনেমাতে পা রাখেন মিঠু মুখোপাধ্যায় (Mithu Mukherjee)। ১৯৭৬ সালে দুলাল গুহ পরিচালিত ‘খান দোস্ত’ ছিল তাঁর প্রথম হিন্দি ছবি। শত্রুঘ্ন সিনহা এবং রাজ কাপুরের সঙ্গে এই ছবিতে তিনি অভিনয় করেছিলেন। বাসু চট্টোপাধ্যায়ের ‘সফেদ ঝুট’, ‘দিল্লাগি’ এবং ‘দো লড়কে দোনো কড়কে’-তে অভিনয় করেন মিঠু। ‘দিল্লাগি’ ছবিতে ফের শত্রুঘ্ন সিনহার সঙ্গে তাঁকে অভিনয় করতে দেখা যায়।

আরও দেখুন: শোভন-সোহিনীর ঘর আলো করে এল নতুন অতিথি, পুত্রসন্তানের মা হলেন সোহিনী সরকার

হিন্দি ছবির পাশাপাশি বাংলা ছবিতেও একই সঙ্গে তিনি অভিনয় চালিয়ে যান। ১৯৭৭ সালের ‘প্রতিমা’য় সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন মিঠু মুখোপাধ্যায়। দ্বিতীয় স্ত্রীর ভূমিকায় ছিলেন সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়। ছবিটিও দর্শকের মধ্যে ভালো সাড়া ফেলেছিল।

বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে একাধিক বিশিষ্ট শিল্পীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি (Mithu Mukherjee)। উত্তমকুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিত মল্লিক, দেবরাজ রায়, শত্রুঘ্ন সিনহা, রাজ কাপুর, বিনোদ মেহরা, নবীন নিশ্চল, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, রবি ঘোষ, মহুয়া রায়চৌধুরীর মতো শিল্পীদের সঙ্গে তাঁর অভিনয় দর্শকের স্মৃতিতে আজও রয়ে গিয়েছে।

অনেক বছর আগেই অভিনয় থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী (Mithu Mukherjee)। তবু তাঁর অভিনীত চরিত্রগুলি বাংলা ছবির দর্শকের মননে রয়ে গিয়েছে। ‘মৌচাক’-এর নীপা, ‘মর্জিনা আবদুল্লা’র মর্জিনা কিংবা ‘আশ্রিতা’র মতো চরিত্রের মাধ্যমেই দর্শকের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবেন তিনি।

দেখুন: ‘এরকম খবর পাব ভাবতেই পারিনি’, মিঠুর প্রয়াণে রঞ্জিত মল্লিক