• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 1 August, 2026

Explainer: ‘আমি যা করেছি ক্ষমার অযোগ্য’, প্রধানমন্ত্রীকে অশ্লীল অপমান করা রুচিকার পরিচয় জানুন

পুলিশ রুচিকাকে শনাক্ত করে নয়ডায় তাঁর ঠিকানা খুঁজে বের করে। দিল্লি ও নয়ডা পুলিশের দল তাঁর আবাসনে গিয়ে সোসাইটির কর্মীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।

Explainer: ‘আমি যা করেছি ক্ষমার অযোগ্য’, প্রধানমন্ত্রীকে অশ্লীল অপমান করা রুচিকার পরিচয় জানুন

Photo: Statesman

নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা সেই  আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন রুচিকা সিংহ। সেই প্রতিবাদ আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে রুচিকা আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়। এরই মধ্যে শুক্রবার নরেন্দ্র মোদী একটি ভিডিও প্রকাশ করে জানান, বিক্ষোভের সময় তাঁকে আপত্তিকর কথা বলা অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। মোদীর সেই ভিডিও বার্তা প্রকাশ হওয়ার পরেই রুচিকা অনলাইনে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।

ভিডিও-তে কী জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী?

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ্যে আসে। সেই ভিডিওটিতে মোদী জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভের সময় যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা তাঁকে গালিগালাজ করেছেন। আপত্তিকর কথা বলেছেন, তাঁদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাঁদের শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে যাতে তাঁদের সঠিক পথে পরিচালিত করা যায়, সমাজের উদ্দেশে মোদী সেই বার্তা দিয়েছেন। মোদীর কথায়, ‘আমার এবং আমার প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে যেসব আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। কিন্তু তরুণদের তাঁদের ভুল থেকে শিক্ষা দেওয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইলেন রুচিকা

নরেন্দ্র মোদীর সেই ভিডিও বার্তার পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও বানিয়ে ক্ষমা চাইলেন রুচিকা। ভাইরাল ভিডিওটিতে তিনি নিজেকে ১৫ বছর বয়সি বলে দাবি করেছেন। রুচিকা জানিয়েছেন, তিনি কনট প্লেসে ঘুরে বন্ধুদের সঙ্গে সেদিন বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। তিনি ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি গোটা ঘটনাকে নিজের প্রথম ও শেষ ভুল বলে ব্যাখা করেন।

রুচিকা ওই ভিডিওতে জানিয়েছেন, ‘আমার বয়স মাত্র ১৫ বছর। আমি বিক্ষোভকারীদের দ্বারা সেদিন প্রভাবিত হয়েছিলাম। আমি প্রচুর খারাপ কথা বলেছি। আমি যা করেছি ক্ষমার অযোগ্য।’ এরপরেই তিনি বলেন, ‘আমি পুরো দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমি অত্যন্ত লজ্জিত। নিজের দিকে তাকাতে পারছি না। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিন।’

রুচিকার বিরুদ্ধে থানায় দায়ের মামলা

গত ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা আন্দোলনে মোদীর বিরুদ্ধে তিনি আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। এরপরেই রুচিকা সিংহের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়। অভিযোগকারীর দাবি ছিল, রুচিকা যে ধরনের মন্তব্য করেছেন, তা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মর্যাদার পরিপন্থী। তাঁর মন্তব্যে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে।

রুচিকার বিরুদ্ধে প্রথমে জিরো এফআইআর দায়ের হয়েছিল। এরপর নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় তাঁর বিরুদ্ধে জিরো এফআইআর দায়ের হয়। সেই এফআইআর পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় স্থানান্তরিত হয়। পুলিশ রুচিকাকে শনাক্ত করে নয়ডায় তাঁর ঠিকানা খুঁজে বের করে। দিল্লি ও নয়ডা পুলিশের দল তাঁর আবাসনে গিয়ে সোসাইটির কর্মীদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে।

কে রুচিকা সিংহ?

গত ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরে আন্দোলনের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রুচিকার মন্তব্যের ভিডিও প্রথম ভাইরাল হয়। এরপরেই রুচিকার নাম প্রকাশ্যে আসে। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল, তিনি ২৫ বছর বয়সি এক  তরুণী। জানা গিয়েছে, রুচিকা নয়ডায় একটি হাইজিং সোসাইটিতে তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকেন। তবে এই ঘটনার পর থেকে সেই অ্যাপার্টচমেন্টটি বর্তমানে তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীরা জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পর থেকে রুচিকা আর সেই অ্যাপার্টমেন্টে ফেরেননি।

রুচিকার মায়ের ক্ষমাপ্রার্থনা

মেয়েকে নিয়ে বিতর্কে যখন সমাজমাধ্যম তোলপাড়, সেই সময়ে রুচিকার মা মুখ খোলেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হওয়ার পরেই তিনি পুলিশের কাছে একটি ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি জমা দিয়েছেন। রুচিকার মায়ের কথায়, ‘আমরা ইতিমধ্যেই পুলিশের কাছে একটি ক্ষমাপ্রাথর্নার চিঠি জমা দিয়েছি। যা ঘটেছে তার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত।’

আরও পড়ুন: মোদীর ফের ভিডিও বার্তা, অশ্লীল ভাষায় আক্রমণকারীদের ক্ষমা করলেন প্রধানমন্ত্রী

রুচিকার বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সিজেপি-র মুখপাত্রের প্রতিক্রিয়া

রুচিকার করা মন্তব্যের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরে ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, রুচিকার এই ধরনের মন্তব্য সমর্থনযোগ্য নয়। সৌরভ বলেন, ‘অবমাননার ভাষা প্রয়োগ করলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মানহানির মামলা হতে পারে। তবে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপ নিন্দনীয়। আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের জন্য কাউকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। ওই ধরনের ভাষা ব্যবহার যে সঠিক তা নয়। তবে ওই ভাষা ব্যবহার অন্যায় ও আপত্তিকর হতে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র সেই কারণে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ যুক্তিসঙ্গত নয়। তরুণ প্রজন্মের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমার মনে হয় না।’