রাত পেহালেই শনিবার থেকে কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল দেবে ইসকন। ইসকনের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পড়ুয়াদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন যে পড়ুয়াদের পৃথকভাবে ডিমও দেওয়া হবে। এবার এই বিষয়ে আরও একধাপ এগিয়ে বড় তথ্য দিলেন রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। তাঁর আশ্বাস দিয়েছেন, শুধু ডিমেই থেমে থাকা হবে না। আগামী দিনে পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলে মাছও দেওয়া হবে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, এসএইচজি গ্রুপের (স্বনির্ভর গোষ্ঠী) মাধ্যমে পড়ুয়াদের পাতে ডিম দেওয়া হবে। ওই ঘোষণার পর নিশীথ প্রামাণিকের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কোচবিহারে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে সাংবাদিক বৈঠক করে নিশীথ প্রামাণিক বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত সঠিক এবং সময়োপযোগী ঘোষণা করেছেন। অনেকে প্রচার চালাচ্ছিল যে শিক্ষার্থীদের প্রোটিন ও পুষ্টির অভাব হবে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপে তাদের মুখ বন্ধ হবে। শুধু ডিম কেন? আগামী দিনে পাতে মাছও দেওয়া হবে।’ কবে থেকে মিড-ডে মিলে মাছ মিলবে? এই প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, মিড-ডে মিলে আলাদা করে ডিমের ব্যবস্থা করা হবে। সরকার বা সরকার পোষিত মোট ৮০ হাজার ৩৭৫টি স্কুলকে ২৯৬ কোটি টাকার বেশি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মিড-ডে মিল প্রসঙ্গে ডিম নিয়ে জানান, ১ আগস্ট থেকে ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রোটিনযুক্ত আহারের কথা মাথায় রেখে হেল্প গ্রুপের মাধ্যমে স্কুলগুলিতে ডিম দেওয়া হবে। তবে নিশীথ প্রামাণিকের বক্তব্য, ‘যেখানে পুষ্টিযুক্ত খাদ্যের সংযোজন করার প্রয়োজন হবে সেখানে রাজ্য সরকার চিন্তা করবে।’
তাছাড়া মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রোটিন যুক্ত খাবার দেবে ইসকন। তবে পড়ুয়াদের অভিভাবকদের কাছ থেকে তাঁদের কাছে যে অনুরোধ এসেছে সেটা মাথায় রেখেই সেলফ-হেল্প গ্রুপের মাধ্যমে ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটা আলাদা করে দেওয়া হবে সপ্তাহে একদিন বা দুদিন। শনিবার কলকাতায় এটার সূচনা করা হবে। শুভেন্দু অধিকারী কদিন আগে সাংবাদিক বৈঠকে বলেছিলেন, ‘পড়ুয়াদের ডিম বন্ধ হচ্ছে না মিড-ডে মিলে। স্কুলগুলিতে শুদ্ধ, প্রোটিনযুক্ত খাবার পরিবেশন করবে ইসকন। তার বাইরে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রোটিনযুক্ত ডিম আলাদা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। যাতে পড়ুয়াদের প্রোটিনযুক্ত সম্পূর্ণ আহার দিতে পারি।’




