• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 31 October, 2026

টুলু মণ্ডল কে? বাড়ি সিল করল পুলিশ, আত্মীয়ের কাছে গচ্ছিত ২৮ কোটি নগদ, ১৫ কেজি সোনা

এই আবহে মহম্মদবাজার পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি শম্পা মাহারার শ্বশুরবাড়ি মহম্মদবাজারের কুলিয়া গ্রামে এবং বাপের বাড়ি

টুলু মণ্ডল কে? বাড়ি সিল করল পুলিশ, আত্মীয়ের কাছে গচ্ছিত ২৮ কোটি নগদ, ১৫ কেজি সোনা

Image: File Photo

টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ২৮ কোটি নগদ এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বীরভূমের ‘পাথর ব্যবসায়ী’ টুলু মণ্ডলের দুর্নীতির পর্দাফাঁস হতেই সকলের চোখ কপালে উঠেছে। এই দুর্নীতির সঙ্গে যে বা যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কড়া ‘পদক্ষেপ’ করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির হদিশ মেলার পর পুলিশ টুলু মণ্ডলের সিউড়ির বাড়ি সিল করে দিয়েছে পুলিশ। আয় বহির্ভূত এই সম্পত্তি টুলু মণ্ডল রেখেছিলেন আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়িতে।

এই টুলু মণ্ডল তাঁর আত্মীয়ের বাড়িতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ রেখে গা-ঢাকা দিয়েছে। বিদেশে আছেন এই ব্যবসায়ী বলে সূত্রের খবর। আর অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ টুলু মণ্ডল বলেই সামনে এসেছে। টুলু মণ্ডলের বিপুল সম্পত্তির বিবরণ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টুলু মণ্ডলের নানা অ্যাকাউন্টে থাকা ৯৩ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছি। নগদ ৫৩ লক্ষ টাকা বাজেয়াপ্ত করেছি। ২৬৮ গ্রাম সোনা, ৪০০ গ্রাম রুপো এবং ৬৩ গ্রাম প্ল্যাটিনাম। ৩টি টাকা গোনার মেশিন, ১ কম্পিউটার ও সিপিইউ, ২টি পেনড্রাইভ মিলেছে। ৮৩টি ট্রাক ও ডাম্পার। বিএমডব্লিউ, অডি মিলিয়ে মোট ২৪২টি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মোট ২১টি সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। তার মধ্যে রয়েছে ৭টি বাড়ি, ১টি ফার্মহাউস, ২টি পেট্রল পাম্প, ১টি পার্কিং, ২টি ক্রাশার। সবমিলিয়ে ৩০০ বিঘা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে।’

এই আবহে মহম্মদবাজার পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি শম্পা মাহারার শ্বশুরবাড়ি মহম্মদবাজারের কুলিয়া গ্রামে এবং বাপের বাড়ি খড়িয়া গ্রামে অভিযান চালায় জেলা পুলিশ। শম্পা মাহারা টুলু মণ্ডল ঘনিষ্ঠ বলে এলাকায় পরিচিত। তবে এখনও টুলু মণ্ডলের নাগাল পুলিশ এখনও পায়নি। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্বাস, খুব দ্রুত টুলু মণ্ডলকে খুঁজে বের করবে রাজ্য পুলিশ। টুলুর সঙ্গে অনুব্রতর নাম জড়িয়ে গিয়েছে। টুলু মণ্ডলের এই বাড়বাড়ন্ত হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের জমানায়। আত্মীয় মিনার মণ্ডল তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি তাঁর নয়। সবই টুলু মণ্ডলের। তাঁর কাছে রাখতে দেওয়া হয়েছিল। দুবাই থেকে বেআইনি পথে সোনার বিস্কুট এখানে আনা হয়েছিল। তবে কোন পথে সোনা এবং নগদ এসেছে এই দেশে সেটা খুঁজে দেখছে তদন্তকারীরা।

শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘মূল মাথার খোঁজে যা যা করার করব। এত বড় দুর্নীতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সাপোর্ট ছাড়া হতে পারে না। এতদিন ধরে এত বড় দুর্নীতি, সবাই যুক্ত রয়েছে। এটা একদিনের একটা ঘটনা নয়। আমার রাজ্যে কী ঘটছে, তার জন্য আমি দায়ী নই। কিন্তু তারপর কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন, সেটাই আসল। এত সম্পত্তি তো একদিনে হয় না। এতদিন ধরে কী করছিলেন? উঁচুতলা থেকে নির্দেশ না গেলে, এটা হয় না। বেচারি পুলিশ, জেলাশাসককে দোষ দিয়ে কী লাভ আছে। তবে যারা যুক্ত তাদের সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’