আমেরিকায় দীর্ঘদিন ধরে কাজের সূত্রে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে আসতে পারে নতুন একটি বিল। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর অ্যালেক্স প্যাডিলা এমনই একটি প্রস্তাব মার্কিন সিনেটে উত্থাপন করেছেন। বিলটি আইনে পরিণত হলে অন্তত ৭ বছর ধরে আমেরিকায় বসবাসকারী বহু অভিবাসীর গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ সহজ হতে পারে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত ভারতীয়রা।
প্রস্তাবিত বিলে বলা হয়েছে, যাঁরা অন্তত ৭ বছর ধরে টানা আমেরিকায় বসবাস করছেন এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক আইনি শর্ত পূরণ করছেন, তাঁরা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে কোনও গুরুতর অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা চলবে না।
বর্তমানে গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট’-এর ২৪৯ নম্বর ধারার অধীনে ১৯৭২-এর ১ জানুয়ারির আগে আমেরিকায় বসবাসের শর্ত রয়েছে। নতুন বিলটি সেই নির্দিষ্ট তারিখের বদলে ‘অন্তত সাত বছর বসবাস’ করার শর্ত চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে নতুন নিয়ম চালু হবে।
সিনেটর অ্যালেক্স প্যাডিলার দাবি, ১৯৮৬ সালের পর অভিবাসন আইনের এই অংশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। তাই বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আইনকে আধুনিক করতেই এই উদ্যোগ। তাঁর কথায়, বহু পরিশ্রমী অভিবাসী বছরের পর বছর আমেরিকার অর্থনীতি ও সমাজে অবদান রাখলেও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবন কাটাচ্ছেন। তাঁদের স্থায়ী বসবাসের জন্য একটি ন্যায্য পথ তৈরি করা প্রয়োজন।
এইচ-১বি ভিসাধারীদের একটি বড় অংশই ভারতীয়। কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের সীমিত কোটার কারণে তাঁদের অনেক বছর অপেক্ষা করতে হয়। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই দীর্ঘ অপেক্ষা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই বিলের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। বিলটি এখনও সিনেটে পাস হয়নি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে। তাঁর প্রশাসন বিদেশি কর্মীদের ভিসার খরচও বাড়িয়েছে। ফলে রিপাবলিকানদের সমর্থন ছাড়া এই বিল আইনে পরিণত হওয়া সহজ হবে না বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




