• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 29 July, 2026

সন্ত্রাসে মদতের অভিযোগ, টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সন্ত্রাসে মদতের অভিযোগে টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করল রাশিয়া। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানুন।

সন্ত্রাসে মদতের অভিযোগ, টেলিগ্রাম প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

PAVEL DUROV (@DUROV) / INSTAGRAM)

বড়সড় অভিযোগ উঠল টেলিগ্রামের (Telegram) প্রতিষ্ঠাতা পাভেল দুরভের (Pavel Durov) বিরুদ্ধে। রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থা এফএসবি (FSB) তাঁকে সন্ত্রাসে মদত দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। জারি হয়েছে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। তাঁর নাম উঠেছে আন্তর্জাতিক তালিকাভুক্ত পলাতকদের খাতায়।

কী অভিযোগ

এফএসবির দাবি, টেলিগ্রামে এমন বেশ কিছু চ্যানেল, চ্যাট আর বট চলছিল। সেগুলি নাকি সরানো হয়নি। এফএসবি বলছে, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা আর জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি এই চ্যানেলগুলি ব্যবহার করছিল। উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার মধ্যে নাশকতা চালানো। সাইবার প্রতারণা চালানোরও অভিযোগ উঠেছে। এফএসবির মতে, এর জেরে বহু মানুষের প্রাণ গিয়েছে। বহু কোটি টাকার ক্ষতিও হয়েছে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

পাভেল দুরভের জন্ম রাশিয়ায়। তিনি একসময় রাশিয়ার নিজস্ব ফেসবুক বলে পরিচিত ভি-কন্তাক্তে (VKontakte) তৈরি করেছিলেন। ২০১৪ সালে রাশিয়া ছাড়েন তিনি। এখন তিনি ফ্রান্স ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির যৌথ নাগরিকত্বের অধিকারী। টেলিগ্রামের ব্যবহারকারী এখন ১০০ কোটির বেশি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে দুই পক্ষই এই অ্যাপ ব্যবহার করছে। ফলত, দুরভের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপের গুরুত্ব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।

আগেও বিতর্ক

এই প্রথম নয়। ২০২৪ সালে ফ্রান্সেও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন দুরভ। সেই সময় অভিযোগ ছিল, টেলিগ্রামে অপরাধমূলক কার্যকলাপ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। আইনরক্ষকদের সঙ্গে সহযোগিতাও করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। মাদক পাচার আর শিশু নির্যাতনের কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগও ছিল সেই মামলায়। দুরভ অবশ্য বরাবরই সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। রাশিয়ার এই নতুন অভিযোগকেও তিনি আগেই ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছিলেন।

পশ্চিমবঙ্গের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ

পশ্চিমবঙ্গেও টেলিগ্রামের ব্যবহারকারীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই অ্যাপের জনপ্রিয়তা বেশি। পড়াশোনার নোট আদানপ্রদান থেকে শুরু করে নানা তথ্য শেয়ার করার কাজেও অনেকে টেলিগ্রাম ব্যবহার করেন। রাজ্যের সাইবার অপরাধ দমন শাখাও (Cyber Crime Cell) একাধিকবার এনক্রিপ্টেড অ্যাপ নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। বিশ্বজুড়ে এনক্রিপ্টেড অ্যাপ নিয়ন্ত্রণে যে চাপ বাড়ছে, তার আঁচ ভারতেও পড়ছে। সম্প্রতি প্রশ্নফাঁস আটকাতে টেলিগ্রাম ব্যবহার সাময়িক সময়ের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র।