• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 29 July, 2026

এক পদে চার বছরের বেশি নয়, পোস্টিংয়ে কড়া পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্যভবন

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, গত ১৩ জুলাই কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকার ভিত্তিতেই এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে

এক পদে চার বছরের বেশি নয়, পোস্টিংয়ে কড়া পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্যভবন

Swasthya Bhavan Photo-ANI

নিজের জেলায় পোস্টিং সবাই চান। কিন্তু তা দিতে গেলে নানা অভিযোগ উঠে যায়। এমনকী স্বজনপোষেণের অভিযোগও উঠে যায়। এবার পোস্টিংয়ে রাশ টানা থেকে শুরু করে একই পদে দীর্ঘদিন থাকা অফিসারদের বদলি বাধ্যতামূলক করা-সহ একাধিক বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ করল স্বাস্থ্য দপ্তর। কড়া বদলি নীতি কার্যকর করেছে রাজ্য সরকার। কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের নির্দেশিকা মেনে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ দপ্তর এই সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের অধীন সব শাখা এবং অধিকর্তাদের সেটা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনও আধিকারিক অথবা কর্মচারী সাধারণ নিয়মে এবার থেকে নিজের জেলায় পোস্টিং পাবেন না। অবসরের আগের দু’বছর প্রশাসনিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে এই নিয়মে খানিকটা ছাড় দেওয়া হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে একই পদে কাজ করার প্রবণতা ঠেকাতে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নতুন নীতি অনুযায়ী, কোনও আধিকারিক বা কর্মী নির্দিষ্ট পদে একটানা তিন বছর কাজ করলেই তাঁকে বদলির কথা বিবেচনা করতে হবে। একই পদে চার বছরের বেশি সময় থাকতে পারবেন না।

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, গত ১৩ জুলাই কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরের জারি করা নির্দেশিকার ভিত্তিতেই এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। প্রশাসনে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই নতুন বদলি নীতি কার্যকর করা হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে রাজস্ব আদায়, কর সংগ্রহ এবং অন্য সংবেদনশীল ফিল্ড পোস্টিংয়ের ক্ষেত্রে। এই ধরনের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের দু’বছর পূর্ণ হলেই বদলির প্রক্রিয়া শুরু করার সুপারিশ করা হয়েছে। কোনওভাবেই তিন বছরের বেশি একই দায়িত্বে রাখা যাবে না। স্বাস্থ্য অধিকর্তা, স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিকর্তা, আয়ুষ, হোমিওপ্যাথি, ড্রাগ কন্ট্রোল-সহ স্বাস্থ্য দপ্তরের সব বিভাগে এই নীতি কড়াভাবে কার্যকর করতে হবে। তবে প্রশাসনিক স্বার্থে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন মনে করলে এই নিয়মে শিথিল করতে পারবেন।

তাছাড়া দীর্ঘদিন একই পদে কর্মরত আধিকারিকদের রদবদল নিশ্চিত হলে প্রশাসনিক স্থবিরতা কমবে, কাজের গতি বাড়বে এবং স্বজনপোষণ বা অনিয়মের সুযোগও কমে আসবে বলে অনেকের ধারণা। তাই রাজ্য সরকারের এই নতুন বদলি নীতিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি কর্মীদের নির্দিষ্ট সময় অন্তর বদলির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। কিন্তু ফিল্ড লেভেলের কর্মীদের জন্য প্রণীত সাধারণ নীতি চিকিৎসক, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রে হুবহু প্রযোজ্য কীভাবে হবে? বিশেষ করে জোনভিত্তিক বদলির স্পষ্ট মাপকাঠি ছাড়া এই নীতি কার্যকর হলে হিতে বিপরীত হবে।’