• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 27 July, 2026

‘ইন্ডিয়া জোটের আরেক নাম ককরোচ পার্টি’, দাবি সজলের, প্রতিবাদে রাজপথে বিজেপি

বিজেপির দাবি, এই কর্মসূচি কোনও দলীয় কর্মসূচি নয় বরং দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্যের বার্তা। মিছিলে নেতৃত্ব দেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং সজল ঘোষ।

‘ইন্ডিয়া জোটের আরেক নাম ককরোচ পার্টি’, দাবি সজলের, প্রতিবাদে রাজপথে বিজেপি

Photo: Statesman

নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল দিল্লির যন্তর মন্তর। সেই বিক্ষোভের আঁচ এসে পড়েছিল  দেশের অন্যান্য রাজ্যে। সম্প্রতি কলকাতায় ধর্মতলাতেও আন্দোলন হয়েছে। সেই ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার কলকাতার রাজপথে জোড়া তিরঙ্গা যাত্রা করল বিজেপি। দলীয় পতাকার পরিবর্তে কর্মী-সমর্থকদের হাতে ছিল শুধুই জাতীয় পতাকা।

বিজেপির দাবি, ছাত্র আন্দোলনের নামে দেশবিরোধী শক্তি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। সেই প্রেক্ষিতেই দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের বার্তা দিতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। দলের বক্তব্য, আন্দোলনের অধিকারের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু দেশবিরোধিতা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সোমবার শিয়ালদা থেকে ধর্মতলা এবং গোলপার্ক থেকে যাদবপুর পর্যন্ত দুটি পৃথক তিরঙ্গা যাত্রা বের করে বিজেপি।

শিয়ালদার মিছিলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় মতুয়া সমাজের সদস্যরা যোগ দেন। জাতীয় পতাকা হাতে তাঁদের উপস্থিতি মিছিলে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। বিজেপির দাবি, এই কর্মসূচি কোনও দলীয় কর্মসূচি নয় বরং দেশবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ঐক্যের বার্তা। মিছিলে নেতৃত্ব দেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং সজল ঘোষ।

BJP Protest
Photo: Statesman

অগ্নিমিত্রা পালের অভিযোগ, ছাত্রদের সামনে রেখে এক শ্রেণির শক্তি দেশে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, ‘পড়ুয়াদের শিখণ্ডী করে ক্ষমতা দখলের রাজনীতি করা হচ্ছে।’ সজল ঘোষ বলেন, ‘সিপিএম ও তৃণমূল কংগ্রেস এখন ককরোচ সেজেছে। ইন্ডিয়া জোটের আর এক নাম ককরোচ পার্টি।’ তাঁর অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে দেশবিরোধী শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।

মিছিলের শেষে দৈনিক স্টেটসম্যান-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন,  ‘আজ আমরা কেউ ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতিনিধি নই। আজ আমরা ভারতমাতার সন্তান।’ তিনি আরও বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রিজাইন করেননি। ধর্মেন্দ্র প্রধান রিজাইন করেছেন। ভোটে হেরে গিয়েও তিনি পদত্যাগ করেননি। তাঁর দল হেরেছে, তিনিও হেরেছেন। তারপরেও রিজাইন করেননি। ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের ঘটনাতেও তিনি পদত্যাগ করেননি। কিন্তু নিট পরীক্ষাকে ঘিরে বিতর্কের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান মানুষের রায়কে সম্মান জানিয়ে পদত্যাগ করেছেন।’

BJP Protest
Photo: STATESMAN

তাপস রায় আরও দাবি করেন, কংগ্রেস আমলে ৫৩ বার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। তাঁর কথায়, ‘রাষ্ট্রবিরোধিতার যে কোনও ডিজাইন ব্যর্থ করা হবে।’ অন্যদিকে, দৈনিক স্টেটসম্যান-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী বলেন, ‘দেশবিরোধী শক্তিদের দেশের আইন এবং দেশের জনগণই জবাব দেবে।’

বিজেপির মূল বার্তা ছিল, ছাত্রদের ন্যায্য আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু সেই আন্দোলনের আড়ালে দেশবিরোধী স্লোগান, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ কিংবা সাংবাদিকদের উপর হামলার কোনও স্থান নেই। সেই কারণেই দলীয় পতাকার পরিবর্তে জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাজপথে নেমে দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে গেরুয়া শিবির।