টানা ২৬ দিনের অনশন। তারপর ১০ দিন হাসপাতালে চিকিৎসা। অবশেষে সোমবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। গুরুগ্রামের হাসপাতাল থেকে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ রয়েছেন। লাদাখে ফেরার আগে তিনি দিল্লির রাজঘাটে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানাবেন। ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক বলেন, ‘আজ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাচ্ছি। এখন অনেকটা ভালো আছি। ধীরে ধীরে খাবার খেতে পারছি। শরীরে শক্তিও ফিরছে।’ তিনি আরও জানান, অনশন শুরুর আগে যেমন রাজঘাটে গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন, তেমনই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও প্রথমে সেখানে গিয়ে মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তারপর লাদাখের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেছিলেন ওয়াংচুক। গত ১৮ জুলাই দিল্লি পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে আদালতের অনুমতিতে তাঁকে গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতালেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
অবশেষে গত বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর অনশন প্রত্যাহার করেন ওয়াংচুক। কেন্দ্রের কাছ থেকে তিনটি বিষয়ে আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান। আশ্বাসগুলির মধ্যে ছিল, ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করা। নিট-সহ পরীক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে সংসদে আলোচনা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা।
তবে সেই সময় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যায় ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। পরে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা করে সংগঠনটি। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ওয়াংচুক আন্দোলনের সময় পাশে থাকার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানান। চিকিৎসক, নার্স এবং হাসপাতালের কর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, এই আন্দোলন শুধু একজনের ছিল না। দেশের নানা প্রান্তের মানুষের সমর্থনেই তা সফল হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ওয়াংচুকের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। অনশনের সময় তাঁর ওজন প্রায় ১১ কেজি কমে গিয়েছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বলা হয়েছে তাঁকে। ওয়াংচুকের বক্তব্য, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও দেশের শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থায় স্থায়ী সংস্কার করাই এখন সবচেয়ে জরুরি। সেই লক্ষ্যেই আগামী দিনে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ চালিয়ে যাবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।




