• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 17 September, 2026

৬৪০ বাস্তুচ্যুতের মৃত্যু, মণিপুর সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

মণিপুরের বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেওয়া মানুষের রহস্যজনক মৃত্যু ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা

৬৪০ বাস্তুচ্যুতের মৃত্যু, মণিপুর সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

Supreme Court Photo-SNS

মণিপুরের বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নেওয়া মানুষের রহস্যজনক মৃত্যু ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ত্রাণশিবিরে ঘটা ২৫টি রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট-সহ যাবতীয় নথিপত্র চেয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে ২০২৩ সালের মণিপুর গোষ্ঠীহিংসা সংক্রান্ত একাধিক মামলার শুনানি হয়। জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি গীতা মিত্তলের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট-নিযুক্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতেই এদিন শুনানি হয়। কমিটির রিপোর্টে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্যের উল্লেখ করে ত্রাণশিবিরে বসবাসকারী গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপত্তা এবং জীবনধারণের অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ।

শুনানিতে গত ৪ জুলাই গীতা মিত্তল কমিটির চাওয়া তথ্যের জবাব না দেওয়ায় মণিপুরের অ্যাডভোকেট জেনারেলকে কড়া ভর্ৎসনা করে আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে বলেন, আদালতকে যাতে আরও কঠোর নির্দেশ জারি করতে বাধ্য না করা হয়, সে বিষয়ে রাজ্যকে সতর্ক থাকতে হবে। এতদিনে এই ঘটনায় কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা অবিলম্বে আদালতকে জানানোর নির্দেশও দেন তিনি।

গীতা মিত্তল কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী, মণিপুরের আটটি জেলার বিভিন্ন ত্রাণশিবিরে মোট ৬৪০ জন বাস্তুচ্যুত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফৌজদারি মামলা দায়ের হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের মধ্যে মাত্র ২০ জনের ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়েছে। রহস্যজনক মৃত্যুর ক্ষেত্রে কেন যথাযথ তদন্ত হয়নি এবং মাত্র ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত।

মণিপুর লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিকে প্রতিটি রহস্যজনক বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত প্রথম তথ্য প্রতিবেদন দায়ের এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

অন্যদিকে, কেন্দ্রের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি জানান, আটটি জেলা জুড়ে মোট ৪২টি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে ৩,০২০টি মামলার তদন্ত চলছে। এর মধ্যে ৩০২টি মামলায় অভিযোগপত্র পেশ হয়েছে এবং ১,৫৮৩টি মামলায় তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে। আরও ১,১৩৫টি মামলার তদন্ত চলছে এবং ৩৩টি মামলার বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তদের আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেন, গুয়াহাটির বিশেষ আদালতে সপ্তাহে মাত্র দু’দিন এই মামলাগুলির শুনানি হচ্ছে। জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, সপ্তাহে দু’দিন শুনানি হলেও মামলার অগ্রগতি হচ্ছে। তবে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর মামলাগুলির জন্য প্রয়োজনে আরও দু’টি পৃথক বিশেষ আদালত গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি গুয়াহাটি হাইকোর্টের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো দ্রুত নিশ্চিত করতে কেন্দ্রকে নির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।