নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে সরগরম হয়ে উঠেছিল দিল্লির যন্তর মন্তর। গত ২০ জুলাই দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সংসদ চলো অভিযান চলাকালীন রণক্ষেত্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই সময় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে পুলিশ পেলেট গান থেকে ছররা গুলি ছুঁড়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। ছররা গুলি ছোঁড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন দিল্লি পুলিশের কর্তারা। গোটা ঘটনাটা প্রকাশ্যে আসতেই অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স বা সিআরপিএফ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দিল্লির কনট প্লেসে র্যা ফের এক জওয়ান পেলেট গান থেকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এক-দু রাউন্ড নয়। সাত রাউন্ড ছররা ছুঁড়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে পাঁচ রাউন্ড বিক্ষোভকারীদের গায়ে লাগে। দুই রাউন্ড লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সূত্রের খবর, পেলেট গান থেকে যে ছররা ছোঁড়া হয়েছে, তাতে তিন জন গুরুতর জখম হয়েছেন।
সিজেপি সূত্রের খবর, তিনজন গুরুতর জখমের মধ্যে রয়েছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যায়ের একজন ছাত্র সাহিল লোচাব। আউটলুক ম্যাগাজিনের একজন সাংবাদিক ও গুরুগ্রামে কর্মরত ইরশাদ খান। তিনজনকেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজনকে একটি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পুলিশ ও সরকারের তরফে এর আগে দাবি করা হয়েছিল, বিক্ষোভকারীদের আটকাতে শুধু লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। পেলেট গুলি ব্যবহার করা হয়নি। তবে এখন চারজন আন্দোলনকারী পেলেট গুলিতে বিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে সিআরপিএফ সূত্রের খবর, কনট প্লেস এলাকায় এই সংঘর্ষে র্যা ফের ৪৭ জনেরও বেশি জওয়ান আহত হয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন গুরুতর জখম হয়েছেন। এরকম বড় ধরনের অপরেশনের পরে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই পর্যালোচনা শুরু করেছে সিআরপিএফ।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে বিহারেও উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল বিহারের সিওয়ান জেলা। ২৫ জুলাই সেই বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ বাঁধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতেই পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়েন। সেই ছাত্র বিক্ষোভে এক পুলিশকর্মী AK-47 রাইফেল থেকে ছাত্রদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। সেদিন গুলিতে তিনজন আহত হন। গোটা ঘটনাটি সামনে আসার পর অভিযুক্ত পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে এই ঘটনায় রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ কুমার ঝা সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গিয়েছে।




