• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 27 July, 2026

উত্তেজনার আবহে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সোমবার বিধানসভা নির্বাচন শুরু, চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত

৫৩ সদস্যের আইসভায় ১২টি আসন এমন প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত, যারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দা নন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংরক্ষিত আসনগুলিতে ইসলামাবাদের সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা থাকায় কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল সাধারণত নির্বাচনে সুবিধা পেয়ে থাকে

উত্তেজনার আবহে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সোমবার বিধানসভা নির্বাচন শুরু, চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত

Image: ANI

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মাঝেই আজ থেকে শুরু হল পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন। তিন দফায় এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। চলবে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত। সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং প্রশাসনির কড়াকড়ির কারণে পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত।

গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে ইসলামাবাদবিরোদী আন্দোলন জোরদার হয়েছে। বিশেষ করে গত কয়েক সপ্তাহে আন্দোলনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তান সরকার ‘জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি’ নামে একটি নাগরিক সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সাম্প্রতিক অধিকাংশ আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিল এই সংগঠন। নিষেধাজ্ঞার পর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়ে এবং প্রতিবাদ আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সঙ্কট, নাগরিক পরিষেবার অভাব, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং একের পর এক বিধিনিষেধের ফলে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ জমছিল পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে। সাম্প্রতিক দমনপীড়নের কারণে খাদ্যশস্য, ভর্তুকিযুক্ত গম এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহেও সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অঞ্চলটির মানুষ পর্যাপ্ত সুবিধা পান না। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বিদ্যুতের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি হলেও সাধারণ মানুষকে প্রায়ই ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মুখে পড়তে হয়। পাশাপাশি বিদ্যুতের বিলও তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

এরই মধ্যে সমাজমাধ্যমে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির নেতা সর্দার আমন খানের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছ, যেখানে তাঁকে ভারতের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাতে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ওই ভিডিওর সত্যতা দৈনিক স্টেটসম্যান যাচাই করেনি।

এই প্রসঙ্গে ভারত সরকার সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দিল্লির বক্তব্য, সেখানে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ অর্থনৈতিক শোষণ, মৌলিক অধিকার খর্ব এবং প্রশাসনিক দমননীতি। একই সঙ্গে ভারত পুনরায় দাবি করেছে, পাক অধিকৃত কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং পাকিস্তান সেটি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।

ভারতের এই অবস্থানের কিছুদিন পর রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের দপ্তরও সাম্প্রতিক সংঘর্ষে হওয়া মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে। বর্তমানে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের প্রশাসনিক ক্ষমতা রয়েছে কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর হাতে। শেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২১ সালে। সেই সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান।

৫৩ সদস্যের আইসভায় ১২টি আসন এমন প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত, যারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দা নন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংরক্ষিত আসনগুলিতে ইসলামাবাদের সমর্থিত প্রার্থীদের নির্বাচিত হওয়ার প্রবণতা থাকায় কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন দল সাধারণত নির্বাচনে সুবিধা পেয়ে থাকে। অতীতেও ২০১১ সালে পাকিস্তান পিপলস পার্টি, ২০১৬ সালে পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) এবং ২০২১ সালে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ এই নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। এবারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে কি না, সেদিকেই নজর সকলের।