তিনি ছাত্র আন্দোলনের নেতা। রাজ্য-রাজনীতিতেও পরিচিত মুখ। ভাল বক্তা এবং মাঠে-ময়দানে লড়াই-সংগ্রাম করে জনপ্রিয় হয়েছেন। সিপিএমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দল ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে এসেছিলেন। তারপর তাঁর বক্তব্য আরও উচ্চগ্রামে পৌঁছে ছিল। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। হ্যাঁ, তিনি প্রতীক উর রহমান। তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচনে হেরে গিয়েছে। দল ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু ককরোচ পার্টির কলকাতার মিছিলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এবার সরব হলেন তিনি। আর তখনই তাঁর অতীত টেনে ধুয়ে দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। এখন তিনি পরাজিত দলের সৈনিক। তবে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাননি। বরং ফলাফলের পর থেকে চুপ করেছিলেন। কোথাও তাঁকে দেখাও যায়নি, কোনও বক্তব্য শোনাও যায়নি। নিট কেলেঙ্কারি ইস্যুতে যখন উত্তাল গোটা দেশ, ছাত্ররা বিক্ষোভ করছে, তাঁর দলের নেতারা দিল্লিতে পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তখনও চুপ প্রতীক উর। অবশেষে ছাত্রদের জয়ের পর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে নিশানা করলেন পুলিশের বিরুদ্ধে। আর প্রতীক উরের মন্তব্যের পর পাল্টা দিলেন দিলীপ ঘোষও। সমাজমাধ্যমে প্রতীক উর লিখেছেন, ‘ধর্মতলায় ছাত্রদের উপর পুলিশি জুলুম ও লাঠিচার্জকে তীব্র ধিক্কার জানাই।’
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অনেকেই নানা সমালোচনা করেছেন। প্রতীক উর তাঁদের মধ্যে একজন। কিন্তু দল তো পরাজিত হয়ে বিরোধী আসনে বসেছে অনেকদিন। এতদিন তাঁকে কোনও মন্তব্য করতে এবং পথে-ঘাটে দেখা যায়নি কেন? একুশে জুলাইয়ের মঞ্চেও তো সেভাবে দেখা মেলেনি। তাহলে কি এবার ককরোচ পার্টিতে যোগ দিতে চলেছেন প্রতীক উর? উঠছে প্রশ্ন। আর এই আবহেই রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কটাক্ষ, ‘যে পার্টিতে যাচ্ছেন সে পার্টি ডুবে যাচ্ছে। ছাত্র আন্দোলনকে ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করছে।’ পঞ্চায়েতমন্ত্রীর এই মন্তব্য অত্যন্ত বাস্তব। যদিও তা নিয়ে প্রতীক উর এখনও কিছু বলেননি।
তাছাড়া নয়াদিল্লির ছাত্র আন্দোলনের আঁচ এসে পড়েছিল কলকাতাতে। তাই শুক্রবার বাম ছাত্র-সংগঠনগুলির ডাকে প্রচুর ছাত্রছাত্রীরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছিলেন। বিশাল মিছিল করলেও তাতে দেখা দেয় বিশৃঙ্খলা। পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো ছোঁড়া, বোতল ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। নিগৃহীত হন সাংবাদিকরা। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্রিয় হয় পুলিশ। প্রতীক উর রহমান লাঠিপেটার কথা উল্লেখ করলেও পুলিশ লাঠিপেটার কথা স্বীকার করেনি। গোটা বিষয়ে দিলীপ ঘোষের খোঁচা, ‘উনি ছাত্র আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন না কেন? এত বড় নেতা, এ পার্টি ও পার্টি করছেন। যে পার্টিতে যাচ্ছেন সে পার্টি ডুবে যাচ্ছে। ছাত্র আন্দোলনকে ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করছে। আইন আইনের পথেই চলছে। পুলিশ আইনের কাজই করবে আইনের বাইরে যে যাবে আইন তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করবে।’




