হরারে টি-২০ সিরিজে রেকর্ড গড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। তবে এই বয়সেই জনপ্রিয়তার ঢেউ যেন তাঁর ক্রিকেটকে প্রভাবিত না করে, সেই বার্তাই দিলেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ইশান কিষান। তরুণ ওপেনারকে তাঁর পরামর্শ, সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশি বুফে না থেকে শুধু ক্রিকেটেই মন দাও।
জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে প্রথম টি-২০ ম্যাচে ১৯ বলে ঝোড়ো অর্ধশতরান করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে টি-২০ হাফ সেঞ্চুরির নজির গড়েছেন বৈভব। সেই ইনিংসের পর থেকেই প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
ইশান বলেন, ‘ওকে আমি একটাই কথা বলব— ক্রিকেট নিয়ে ভাবো, সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে নয়। ও এখনো খুব ছোট। এই বয়সে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের জিনিস দেখতে পাওয়া যায়, যা সহজেই মনোযোগ নষ্ট করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওর মধ্যে ভারতকে ম্যাচ জেতানোর সমস্ত গুণ রয়েছে। কিন্তু এখন সবচেয়ে জরুরি হল নিজের খেলায় মন দেওয়া এবং কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাওয়া। যদি ও সেটাই করতে পারে, তাহলে সামনে দারুণ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।’
ইশানের মতে, বৈভবের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর নির্ভীক মানসিকতা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেও কোনো চাপ না নিয়ে স্বাভাবিক খেলাটা খেলছে সে। তবে দীর্ঘ কেরিয়ার গড়তে গেলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন ভারতীয় উইকেটরক্ষক।
উল্লেখ্য, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে প্রথম টি-২০ ম্যাচে বৈভব মাত্র ১৯ বলে অর্ধশতরান করে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়েন। তাঁর বিধ্বংসী ইনিংসের সুবাদেই সহজেই লক্ষ্য তাড়া করে জয় পায় ভারত।
শনিবার জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচে দুরন্ত ৮১ রানের ইনিংস খেলে ভারতের সিরিজ জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেন ইশান। ম্যাচের সেরার পুরস্কার জেতার পর ভারতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জানিয়ে দেন, অতীত বা ভবিষ্যৎ নয়, তাঁর লক্ষ্য শুধুই বর্তমানকে উপভোগ করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাট করা।
হারারেতে ভারতের শুরুটা খুব একটা ভালো হয়নি। দ্রুত উইকেট হারানোর পর ক্রিজে নেমে ইনিংসের হাল ধরেন ইশান। মাত্র ৪৪ বলে ৮১ রানের ঝোড়ো ইনিংসে ছিল একাধিক দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি। তাঁর ইনিংসের উপর ভর করেই ভারত ২০ ওভারে ২১৯/৫ তোলে এবং শেষ পর্যন্ত ৯০ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে জয় নিশ্চিত করে।
ম্যাচের পর ঈশান বলেন, ‘বাইরে কী হচ্ছে, সেদিকে মন দিই না। আমি শুধু বর্তমান মুহূর্তে থাকার চেষ্টা করি। আগের ম্যাচে কী হয়েছে বা পরের ম্যাচে কী হবে, তা নিয়ে ভাবি না।’
নিজের ইনিংসের পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যাপারটা খুব সহজ রেখেছিলাম। নিজের ক্ষমতার উপর বিশ্বাস রেখেছি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী শট খেলেছি। কোন বোলারকে আক্রমণ করা উচিত, সেটা বেছে নিয়েই ব্যাট করেছি।’
ভারতীয় ব্যাটার আরও যোগ করেন, ‘শুরুতে কয়েকটা উইকেট পড়ে গিয়েছিল। তাই তখন প্রয়োজন ছিল একটা ভালো জুটি গড়ার। সেটাই করার চেষ্টা করি। এর পর যখন সেট হয়ে যাই, তখন স্বাভাবিকভাবেই বড় শট খেলি।’
দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফিরে ধারাবাহিকভাবে রান করছেন ইশান। তাঁর মতে, এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি আত্মবিশ্বাস এবং সহজ ক্রিকেট খেলা। ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান নয়, দলের প্রয়োজন অনুযায়ী খেলাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ভারতীয় তারকা।




