• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 25 July, 2026

ধর্মতলা কাণ্ডে ৭০ জন চিহ্নিত, ৭টি মামলা, প্রথমবার প্রয়োগ গুন্ডাদমন আইন বিধানসভায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে,‘তাঁদের তিন পুরুষ মনে রাখবেন’

ধর্মতলা কাণ্ডে ৭০ জন চিহ্নিত, ৭টি মামলা, প্রথমবার প্রয়োগ গুন্ডাদমন আইন বিধানসভায় কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Image: SNS

ধর্মতলায় শুক্রবারের বিক্ষোভ ও অশান্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলাগুলিতে সদ্য বিধানসভায় পাশ হওয়া গুন্ডাদমন আইনও যুক্ত করা হয়েছে। এই আইন প্রথমবারের মতো প্রয়োগ করা হল বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে,‘তাঁদের তিন পুরুষ মনে রাখবেন’। তাঁর দাবি, রাজ্যে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই এই আইন কার্যকর করা হয়েছে।

ধর্মতলার বিক্ষোভ উত্তেজনা  

শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শুক্রবার ধর্মতলায় আন্দোলনের ডাক দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সেই কর্মসূচিতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির সদস্য-সমর্থসসহ বহু সাধারণ মানুষ যোগ দেন। মিছিল চলাকালীন পুলিশের উপর হামলার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি, কর্তব্যরত সাংবাদিকদেরও লক্ষ্য করে জুতো ও জলের বোতল ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিধানসভায় এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের উপর হামলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, পুলিশকে বারবার উস্কানি দেওয়া হলেও তারা সংয দেখিয়েছেন এবং কোনও প্ররোচনায় পা দেননি।

সাতটি মামলা, তদন্ত শুরু

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পর হেয়ার স্ট্রিট থানায় ছয়টি এবং এন্টালি থানায় একটি মোট সাতটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাগুলিতে বেআইনি জমায়েত, হিংসাত্মক কার্যকলাপ, সরকারি কর্মীর কাজে বাধা, অশান্ত ছড়ানোর চেষ্টা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উস্কানির মতো বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি গুন্ডাদমন আইও প্রয়োগ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, দায়ের হওয়া মামলাগুলির মধ্যে পাঁচটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং একটি মামলা পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত উদ্যোগে রুজু হয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

‘ছাত্র নয়, কুখ্যাত দুষ্কৃতী’

মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, যাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে, তাঁদের কেউই ছাত্র নন এবং নিট আন্দোলনের সঙ্গেও তাঁদেরর কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর অভিযোগ, আন্দোলনের আড়ালে কয়েকজন পরিচিত দুষ্কৃতী অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে।

বিধানসভায় তিনি পাঁচজন অভিযুক্তের নামও উল্লেখ করেন- রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তনবীর ও নিজাম এবং ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। তাঁদের বিরুদ্ধে গুন্ডাদমন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেোয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

বাম ছাত্র সংগঠনগুলিকেও নিশানা

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সিজেপির কর্মসূচিতে এসএফআই-সহ কয়েকটি বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা অংশ নিয়েছিলেন। তবে তাঁদের প্রকৃত ছাত্র পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, এঁদের অনেকেই কোনও কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছাত্র হিসেবে অস্তিত্ব নেই।

সাংবাদিকদেরর উপর হামলার প্রতিবাদ

সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বিধানসভার মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে বিজেপি বিধায়কেরা কালো ব্যাজ পরে প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেমন ডিম ছোঁড়া পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি নয়, তেমনই সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে জলের বোতল বা জুতো ছোঁড়াও এ রাজ্যের সংস্কৃতি হতে পারে না।