• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 24 July, 2026

কাঠগড়ায় টাকি পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান

টাকি পুরসভার কথিত পাহাড়প্রমাণ আর্থিক দুর্নীতির মামলায় বড় মোড়। কলকাতা হাই কোর্টে দাখিল হওয়া এক বিস্ফোরক হলফনামায় তৎকালীন

কাঠগড়ায় টাকি পুরবোর্ডের চেয়ারম্যান

ছবি সোশ্যাল মিডিয়া

টাকি পুরসভার কথিত পাহাড়প্রমাণ আর্থিক দুর্নীতির মামলায় বড় মোড়। কলকাতা হাইকোর্টে দাখিল হওয়া এক বিস্ফোরক হলফনামায় তৎকালীন ‘পে-মাস্টার’ প্রবীর চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি যে আর্থিক লেনদেন ও অনিয়ম করেছেন, তা পুরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়, সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দীপঙ্কর দাস এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষক শুভ্র কুমার দাসের নির্দেশেই করেছেন। পাশাপাশি তিনি আদালতকে জানিয়েছেন, ক্রমাগত ভয় দেখানো, চাপ সৃষ্টি এবং চাকরির ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় তিনি ওই নির্দেশ মানতে বাধ্য হয়েছিলেন।

২০১৮-২২ অর্থবর্ষে টেন্ডার দুর্নীতি, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার এবং একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন টাকি পুরসভার সদ্য ইস্তফা দেওয়া তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস। সেই মামলায় আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে পৃথক হলফনামা জমা দিতে বলা হয়। সেই নির্দেশ মেনেই আদালতে নিজের বক্তব্য পেশ করেন প্রবীর চট্টোপাধ্যায়।

হলফনামায় প্রবীর চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। চেয়ারম্যান সোমনাথ মুখোপাধ্যায়, সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার দীপঙ্কর দাস এবং হিসাবরক্ষক শুভ্র কুমার দাসের নির্দেশেই সমস্ত আর্থিক লেনদেন সম্পন্ন করেছিলেন। নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি ও কর্মজীবনে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে বলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও আদালতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন দফতরের ডিরেক্টরেট অব লোকাল বডিজ। মামলার পরবর্তী শুনানিতে বিস্তারিত নথি ও তথ্য-সহ নতুন হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। আগামী দু’সপ্তাহ পর মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।

মামলায় অভিযোগ, ২০১৮-২২ অর্থবর্ষে শুধুমাত্র জঙ্গল ও ট্রেঞ্চ পরিষ্কারের কাজে ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি, আম্ফান ত্রাণ তহবিলের প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া একাধিক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও জনস্বার্থ মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শুনানির সময় এই বিপুল ব্যয়ের হিসাব নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, শুধুমাত্র জঙ্গল ও ট্রেঞ্চ পরিষ্কারের জন্য এত বিপুল অর্থ কীভাবে ব্যয় হল? আদালতে আরও প্রশ্ন ওঠে, এই অর্থের একটি অংশ টাকি পুরসভার প্রাক্তন ভাইস-চেয়ারম্যানের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং ‘ফ্রেন্ড কনস্ট্রাকশন’-এর অ্যাকাউন্টে কীভাবে পৌঁছাল? টেন্ডার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।

তবে আদালতের একাধিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি টাকি পুরসভার আইনজীবী। এরপরই মামলার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক পক্ষকে পৃথকভাবে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট।

আবেদনকারীর আইনজীবী ওমর ফারুক গাজীর দাবি, সরকারি নথি অনুযায়ী তৎকালীন লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক প্রবীর চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিয়মবহির্ভূতভাবে ৭২ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা স্থানান্তরিত হয়। তিনি কীভাবে ‘পে-মাস্টার’-এর দায়িত্ব পেলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মামলাকারী পক্ষের দাবি, সেই সময় পুরসভায় স্থায়ী বড়বাবু থাকা সত্ত্বেও একজন ক্লার্কের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে সরকারি অর্থ পাঠানো পৌর আইনের পরিপন্থী। পাশাপাশি একাধিক টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।