• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 24 July, 2026

উত্তম-আলোয় ঢাকা পড়লেন সমিত ভঞ্জ, আড়ালেই গৌতম ঘোষ

আজ ২৪ জুলাই। বাংলা সিনেমার প্রবাদপ্রতীম মহানায়ক উত্তম কুমারের মৃত্যুদিন। যা স্মরণ করেন আপামর বাঙালি। মহানায়ক বা স্টাইল আইকন খেতাব

উত্তম-আলোয় ঢাকা পড়লেন সমিত ভঞ্জ, আড়ালেই  গৌতম ঘোষ

আজ ২৪ জুলাই। বাংলা সিনেমার প্রবাদপ্রতিম মহানায়ক উত্তম কুমারের মৃত্যুদিন। দিনটি আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন আপামর বাঙালি। বাংলার শেষ মহানায়ক কিংবা স্টাইল আইকন—দুই অভিধাই যেন তাঁর নামের সঙ্গেই মানানসই। মৃত্যুর ৪৭ বছর পরেও তিনি সমানভাবে বেঁচে আছেন দর্শকের হৃদয়ে। সিনেমাপ্রেমী থেকে সাধারণ বাঙালি—সকলেই আজও স্মরণ করেন তাঁদের স্বপ্নের নায়ককে। তবে এই ‘উত্তম’ আলোর আড়ালে উপেক্ষিত থেকে যান বাংলা সিনেমার আর এক নক্ষত্র, শমিত ভঞ্জ।

উত্তম কুমারের পরবর্তী সময়ে বাংলা সিনেমায় নিজের স্বতন্ত্র জায়গা তৈরি করেছিলেন শমিত ভঞ্জ। একাধিক চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞের মতে, অভিনেতা হিসেবে তাঁর স্থান হওয়া উচিত ছিল হলিউডের ক্লিন্ট ইস্টউড, লি ভ্যান ক্লিফ কিংবা ডেনজেল ওয়াশিংটনের মতো তারকাদের পাশে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি সেই অর্থে প্রাপ্য স্বীকৃতি পাননি। অনেকের মতে, তার অন্যতম কারণ ছিল উত্তম কুমারের বিপুল জনপ্রিয়তা। পরিচালক থেকে দর্শক—সকলেই তখন মহানায়কের মোহে আবিষ্ট। তবু হতাশ হননি শমিত। নিজের অভিনয় দক্ষতায় বারবার প্রমাণ করেছেন তিনি কতটা স্বতন্ত্র। ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করতে করতেই সুযোগ পেয়েছিলেন ‘আবার অরণ্যে’ ছবিতে। সেখানেও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, সকলের মধ্যে থেকেও তিনি আলাদা।

১৯৪৪ সালের ২ জানুয়ারি পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে জন্মগ্রহণ করেন শমিত ভঞ্জ। তাঁর বোন কৃষ্ণার কথায়, ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন বেপরোয়া স্বভাবের। সেই স্বভাবই যেন ফুটে উঠেছিল ‘ছেনো’ চরিত্রে। আর সেই চরিত্রই তাঁকে এনে দিয়েছিল বাংলা সিনেমায় বিশেষ জনপ্রিয়তা।

ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি প্রবল টান ছিল তাঁর। পাড়া ও স্কুলের নাটকে অভিনয় করতে করতেই সেই আগ্রহ আরও বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত পড়াশোনা ছেড়ে তমলুক থেকে কলকাতায় চলে আসেন শুধুমাত্র অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার জন্য। এরপর থিয়েটার থেকে সিনেমা—দুই ক্ষেত্রেই নিজের ছাপ রেখে যান। পাশাপাশি এগিয়েছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও। ভালবেসে নিজের ইচ্ছেতেই বিয়ে করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোলন ক্যানসারের কাছে হার মানতে হয়। তাঁর শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ছিল ‘আবার অরণ্যে’, যা ২০০৩ সালে মুক্তি পায়।

অন্যদিকে, আধুনিক বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল ও সম্মানিত পরিচালক গৌতম ঘোষেরও আজ জন্মদিন। ২৪ জুলাই কলকাতাতেই জন্মগ্রহণ করেন তিনি। নিজের সৃজনশীল কাজের জন্য যেমন বাংলায় সম্মান কুড়িয়েছেন, তেমনই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও অর্জন করেছেন একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি। তাঁর পরিচালিত বহু চলচ্চিত্র বাংলা সিনেমাকে সমৃদ্ধ করেছে। অথচ ২৪ জুলাই এলেই মহানায়ক উত্তম কুমারের স্মরণে যে আবেগের ঢেউ ওঠে, তার মধ্যেই অনেকটা আড়ালে থেকে যায় শমিত ভঞ্জের মৃত্যুদিন এবং গৌতম ঘোষের জন্মদিন।