নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনের আড়ালে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ স্লোগান ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারের অভিযোগ তুলল বিজেপি। বৃহস্পতিবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে মন্ত্রী তাপস রায় বলেন, নিট পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে আলোচনা হোক, কিন্তু সেই আন্দোলনের সঙ্গে উমর খালিদের মুক্তির দাবি, ‘আজাদি’ স্লোগান বা ইয়াসিন মালিকের মতো দোষী সাব্যস্ত জঙ্গি-যোগের অভিযুক্তের নাম জড়ানোর কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, আন্দোলনের নামে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে।
তাপস রায়ের কথায়, তাপস রায় বলেন, নিট প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা হওয়া উচিত এবং বিজেপির তাতে কোনও আপত্তি নেই। তবে কংগ্রেস কেন আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, সংসদে আলোচনা হলে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং বিরোধীদের অভিযোগ—দু’দিকই দেশের সামনে স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নিট প্রশ্নফাঁসের আন্দোলনের সঙ্গে উমর খালিদের মুক্তির দাবি, ‘আজাদি’ স্লোগান, প্রধানমন্ত্রী ও দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে নিশানা করার মতো বিষয়গুলির কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর দাবি, ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালাচ্ছে, যা প্রকৃত ছাত্রদের দাবিকে আড়াল করছে।
তাপস রায় আরও বলেন, শুধু এ বারের নিট নয়, অতীতে বিভিন্ন সময়ে সর্বভারতীয় স্তরে যে সব পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলিরও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। কোনও পরীক্ষাতেই প্রশ্নফাঁস মেনে নেওয়া যায় না এবং যে-ই দোষী হোক, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা হওয়া প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, ২০১৪ সালের পর থেকে দেশে নতুন আইআইটি, আইআইএম-সহ একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে কেন্দ্র ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, কিছু বিরোধী দল ছাত্রদের প্রকৃত স্বার্থের বদলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে এই আন্দোলনকে ব্যবহার করছে। প্রধানমন্ত্রী, সংসদ বা দেশের অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আন্দোলনের নিশানা করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দলের নেতা দেবজিৎ সরকার দাবি করেন, সরকারবিরোধিতার নামে একাংশ রাষ্ট্রবিরোধী অবস্থান নিচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সাংবাদিকদের উপর হামলা, গাড়িতে আগুন লাগানো বা পাথর ছোড়ার মতো ঘটনাকে কোনও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ বলা যায় না।
অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি আসিস বিশ্বাস বলেন, ভবিষ্যতে যাতে প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ২০২৭ সাল থেকে সম্পূর্ণ কম্পিউটার-ভিত্তিক পদ্ধতিতে নিট পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপি আরও অভিযোগ করে, ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে কিছু রাজনৈতিক দল ও নেতার মদতে রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার চালানোর চেষ্টা হচ্ছে, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।




