তৃণমূল জমানায় দুর্নীতির আখড়া ছিল উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় গত সরকারের দুর্নীতির ‘হিসাব’ দিয়ে তোপ দাগলেন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। তিনি জানান, দুর্নীতির ঘটনায় ১২২টি এজেন্সিকে ব্ল্যাক লিস্টেড করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহারে উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। আর সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলোধনা করেন।
এদিকে উত্তরবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী। শাসক-বিরোধী দুই দলের বিধায়কদের নিয়ে সেই কাজ হবে বলেও জানান তিনি। এদিন বিধানসভায় নিশীথ প্রামাণিক বলেন, ‘কোনও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। বহু এজেন্সিকে শোকজ এবং ব্ল্যাক লিস্টেড করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মানুষের মনের ব্যথা বোঝার উপায় ছিল না। ৮১ দিনের সরকারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাতবার উত্তরবঙ্গে গিয়েছেন। তবে বেড়াতে নয়, কাজ করতে। আগের মুখ্যমন্ত্রী কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রশাসনিক বৈঠক করতেন। উন্নয়নের কথা বলতেন, কিন্তু মনে চলত বিভাজনের রাজনীতি।’
অন্যদিকে সব জেলায় এবং বিধানসভায় সমানভাবে উন্নয়ন হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী। এমনকী ১০০টি পর্যটন তথ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার কথাও বলেছেন তিনি। নিশীথ প্রামাণিকের বক্তব্য, ‘দুর্নীতিগ্রস্তদের কোনও জায়গা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরে থাকবে না। উন্নয়ন শুধুমাত্র একটি জেলা বা বিধানসভাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সব জেলায় এবং বিধানসভায় সমানভাবে উন্নয়ন হবে। উত্তরবঙ্গ জুড়ে ১০০টি পর্যটন তথ্য কেন্দ্র হবে। তাতে ফুড প্লাজা, হোম স্টে-সব কিছুই থাকবে। একাধিক জায়গায় ইন্দো-বাংলাদেশ ল্যান্ড পোর্ট তৈরি হবে। প্রত্যেক জেলায় ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মিত হবে। বিধায়ক শাসকদলের হোন বা বিরোধী দলের, সকলকে সঙ্গে নিয়েই উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের কাজ করা হবে। খরস্রোতা নদী সমতলে এলে যেমন তার গতি আরও সুসংহত হয়, তেমনই পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ এবং ছোট সেতু নির্মাণের কাজ করা হবে। প্রত্যেক বছর উত্তরবঙ্গের প্রত্যেকটি বিধানসভা এলাকায় ১০টি করে সেতু নির্মাণ হবে।’
তাছাড়া পার্কিং, পর্যটকদের সুবিধা থেকে শুরু করে শুটিং প্রডাকশান, কর্মসংস্থান এবং ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার কথা বলেছেন মন্ত্রী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে নিশীথ প্রামাণিকের কথায়, ‘মালদহ এবং দুই দিনাজপুরকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে। হোম স্টে, ফুড প্লাজা, সেখানকার বিখ্যাত জিনিস প্রদর্শন এবং বিক্রি করা হবে। এলিভেটেড পর্যটনকেন্দ্র ও রিফ্রেশমেন্ট সেন্টার হবে। গত সরকার জায়গা দেয়নি বলে ল্যান্ড পোর্ট হয়নি। এখন সরকার ল্যান্ড পোর্ট করবে। তাতে বাণিজ্য বাড়বে, কর্মসংস্থান হবে। দার্জিলিংয়ে ট্রমা কেয়ার সেন্টার হতে চলেছে। অসম-বাংলা সীমান্তে নয়া তোরণ হবে। যেখানে রাজ্যের গরিমা দেওয়া থাকবে। বিদেশে পার্বত্য এলাকায় যেভাবে পার্কিং করা হয় সেই মডেলে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকাতেও হাইড্রলিক গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। সমস্যার সমাধানে ‘সিঙ্গল উইন্ডো সলিউশন’-এর ব্যবস্থা করা হবে। সান্দকফুতে কন্টেনার হোম তৈরি হবে।’




