যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির নেতৃত্বে চলা আন্দোলনকে ঘিরে নতুন আইনি বিতর্ক শুরু হয়েছে। আন্দোলনের নেপথ্যে বিদেশি অর্থ ও বহিরাগত শক্তির মদতের অভিযোগ তুলে এনআইএ-র তদন্ত চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। আদালত জানিয়েছে, শুক্রবারই জরুরি ভিত্তিতে মামলাটির শুনানি হবে।
মামলাটি করেছেন অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার প্রাক্তন সহ-সভাপতি সতীশ কুমার আগরওয়াল। তাঁর দাবি, সিজেপির আন্দোলন কোনও প্রকৃত ছাত্র আন্দোলন নয়। এটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং দেশের অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে কোটি কোটি টাকার অনুদান পাচ্ছে এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। সেই অর্থের উৎস এবং তার ব্যবহার খতিয়ে দেখতে এনআইএ বা অন্য কোনও বিশেষ তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে তদন্ত করানোর আর্জি জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আবেদনকারীর আইনজীবী বরুণ কুমার সিনহা প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চের সামনে মামলাটি দ্রুত শুনানির আবেদন জানান। তিনি দাবি করেন, তথাকথিত ছাত্র আন্দোলনের নামে গোটা দিল্লিকে কার্যত অচল করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন রাস্তা অবরোধ হওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। আদালত সেই আবেদন মেনে শুক্রবার শুনানির দিন ধার্য করেছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, দিল্লি পুলিশের দায়ের করা আন্দোলন-সংক্রান্ত সমস্ত এফআইআর এনআইএর হাতে তুলে দেওয়া হোক। পাশাপাশি, আন্দোলনের সময় হিংসা, ভাঙচুর, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, জরুরি পরিষেবায় বাধা, সাংবাদিকদের উপর হামলা, পুলিশকর্মীদের আক্রমণ করা এবং সংসদ ভবনের নিরাপত্তা বলয় ভাঙার চেষ্টার ঘটনায় যাঁরা জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
মামলাকারীর আরও দাবি, এই বিক্ষোভের আড়ালে বিদেশি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছে। এর উদ্দেশ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করা, সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করা এবং দেশের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করা। আবেদনপত্রে পরিবেশকর্মী তথা শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে কিছু বিদেশি সংস্থার যোগাযোগের অভিযোগও তোলা হয়েছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে আদালতে এখনও কোনও প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি।
উল্লেখ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অবস্থান-বিক্ষোভ শুরু করে সিজেপি। টানা ২৩ দিনের অনশনের পর ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে হাজার হাজার আন্দোলনকারী সংসদের উদ্দেশে মিছিল করেন।
এই মামলার তাৎপর্য আরও বেড়েছে, কারণ বুধবার এই আন্দোলন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে পুলিশের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ’-এর অভিযোগে দায়ের হওয়া পৃথক জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের কাছে জবাব তলব করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে আন্দোলনের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিওগ্রাফি সংরক্ষণেরও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ফলে একদিকে পুলিশের ভূমিকা, অন্যদিকে আন্দোলনের অর্থের উৎস— উভয় দিক থেকেই এখন আদালতের নজরে রয়েছে সিজেপির আন্দোলন।




