মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে ট্রেন দুর্ঘটনায় চার শিশু-সহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কর্ণসুবর্ণে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিয়ে তিনি স্বজনহারাদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। এদিন রাজ্য সরকারের তরফে মৃতদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করা হয়। আহতদের দেওয়া হয় ১ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি পরিবারের এক জনকে চাকরিরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এই দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত গেটম্যানকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিন দুপুরে কর্ণসুবর্ণে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই সভাস্থলে গিয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সরকারে পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দেন।

পরে সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ছোট ফুলের মতো বাচ্চাগুলো যেভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশের ভাষা নেই। অর্থ দিয়ে এই ক্ষতি কোনও দিন পূরণ করা যাবে না। তবে সরকারের একটি দায়িত্ব রয়েছে, সরকার সেই দায়িত্ব পালন করছে। আমার ব্যক্তিগতভাবে চোখের জল ছাড়া দেওয়ার কিছু নেই। তবে আমার পক্ষে যা সম্ভব, আমি করব।‘
এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে রেল এবং পুলিশ তাঁকে জানিয়েছে, গেটম্যানের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘এই অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। আমি কথা দিচ্ছি, দোষী কঠোরতম শাস্তি পাবে। আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি পরিবারগুলি আমার কাছে আরও কিছু আবেদন জানিয়েছে, সেগুলিও আমি আমার দায়িত্ব অনুযায়ী পূরণ করার চেষ্টা করব।‘

সূত্রের খবর, জনসভা শেষে দুর্ঘটনায় আহতদের দেখতে হাসপাতালেও যান মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য গত ১৭ জুলাই মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে একটি ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা ঘটে। রেলগেট খোলা থাকায় দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রেন রেললাইন পার হওয়ার সময় পুলকারে ধাক্কা মারে। একটি সাইকেল আরোহীরও মৃত্যু হয়। ট্রেনের ধাক্কায় পুলকার ও সাইকেল দুমড়ে-মুচড়ে দলা পাকিয়ে যায়। চার শিশু-সহ মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন আরও কয়েকজন। তদন্তে জানা যায়, দায়িত্বে থাকা গেটম্যান নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রেলগেট বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলেন। ঘটনার দিনই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। পরে বহরমপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।




