• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 23 July, 2026

মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি আইন বিধি পাস

সমতা ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তির দৃষ্টিভঙ্গি। তাই এই আইন নিয়ে এমনভাবে এগোনো দরকার, যাতে সব পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পথ খুঁজে পাওয়া যায়।

মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি আইন বিধি পাস

Photo: ANI (প্রতীকী ছবি)

মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি আইন বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) বিল, ২০২৬ পাস হওয়া সাম্প্রতিক সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনা। এই বিল ঘিরে যেমন শাসকদলের উচ্ছ্বাস, তেমনি বিরোধীদের আপত্তিও স্পষ্ট। ফলে বিষয়টি শুধুমাত্র আইন প্রণয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক ও সাংবিধানিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে।

ইউসিসি মূলত এমন একটি আইনব্যবস্থা, যেখানে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার বা পারিবারিক সম্পর্কের মতো ব্যক্তিগত বিষয়গুলিতে ধর্মভিত্তিক আলাদা আইন না রেখে সবার জন্য একটাই সাধারণ আইন প্রযোজ্য হয়। মধ্যপ্রদেশের এই নতুন বিল সেই লক্ষ্যেই তৈরি। এতে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তিন তালাক ও নিকাহ হালালার মতো প্রথাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমান উত্তরাধিকার অধিকারের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ ও লিভ-ইন সম্পর্কের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

শাসকদলের মতে, এই আইন সমাজে সমতা প্রতিষ্ঠার একটি বড় পদক্ষেপ। বিশেষ করে মহিলাদের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে তাদের দাবি। সংবিধানের নির্দেশমূলক নীতিতে উল্লেখিত সমান নাগরিক আইন প্রয়োগের ধারণাকেই তারা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছে। তাদের বক্তব্য, ধর্মের ভিত্তিতে ভিন্ন আইন থাকা সমতার পথে বাধা তৈরি করে, তাই একটি অভিন্ন আইন সামাজিক ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করবে।

অন্যদিকে, বিরোধী শিবির এই বিল নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছে। তাদের প্রধান আপত্তি হল, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইন যথাযথ আলোচনার মাধ্যমে এবং বিস্তারিত পর্যালোচনা ছাড়া পাস করা উচিত ছিল না। তারা বিলটিকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানিয়েছিল, যাতে এর বিভিন্ন দিক নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা যায়। বিরোধীদের মতে, দেশের স্তরে এখনো ইউসিসি কার্যকর হয়নি এবং বিষয়টি আইন কমিশনের কাছেও বিবেচনাধীন। সেই অবস্থায় একটি রাজ্য একতরফাভাবে এমন আইন প্রয়োগ করলে তা ভবিষ্যতে সাংবিধানিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।

এছাড়াও, কিছু সমালোচক মনে করছেন যে, এই আইন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে। সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, তা এই আইনের মাধ্যমে ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা। যদিও সরকার জানিয়েছে, তফসিলি জনজাতিদের এই আইনের বাইরে রাখা হয়েছে তাদের নিজস্ব প্রথা ও অধিকারের প্রতি সম্মান দেখিয়েই।

এই বিতর্কের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময় ও প্রাধান্য। বিরোধীরা বলছে, রাজ্যের সামনে বেকারত্ব, কৃষি সংকট, নারী নিরাপত্তা— এমন বহু জরুরি সমস্যা রয়েছে, যেগুলির দিকে সরকারের আরও মনোযোগ দেওয়া উচিত ছিল। তাদের অভিযোগ, ইউসিসি নিয়ে সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন করতে চাইছে, বাস্তব সমস্যাগুলি থেকে দৃষ্টি সরাতে চাইছে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রদেশে ইউসিসি বিল পাস হওয়া একটি বড় নীতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে এর সাফল্য বা প্রভাব নির্ভর করবে এটি কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায় তার ওপর। সমতা ও ন্যায়বিচারের লক্ষ্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ, ততটাই গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীলতা ও অন্তর্ভুক্তির দৃষ্টিভঙ্গি। তাই এই আইন নিয়ে এমনভাবে এগোনো দরকার, যাতে সব পক্ষের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পথ খুঁজে পাওয়া যায়।