চলতি মাসের শেষে ঢাকা সফর করতে পারেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এই কূটনীতিকের সম্ভাব্য সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফেরার পরই গোরের ঢাকা পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। সফরকালে তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিদেশমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক হওয়ার কথা। পাশাপাশি দেশের কয়েকটি প্রধান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই সফর বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের বিদেশনীতি, আঞ্চলিক কূটনৈতিক অবস্থান এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ককে ঘিরে ওয়াশিংটনের আগ্রহ বেড়েছে।
বিশেষ করে চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা মার্কিন প্রশাসনের নজরে রয়েছে। সম্প্রতি বেজিং সফরে গিয়ে একাধিক পরিকাঠামো ও বিনিয়োগ প্রকল্পে চিনের সহযোগিতা চেয়েছে ঢাকা। তিস্তা প্রকল্প, মংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংক্রান্ত পরিকল্পনায় চিনের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলাদেশের এই অবস্থানে ওয়াশিংটন সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। কারণ, দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। বাংলাদেশ-মায়ানমার-চিন করিডর সংক্রান্ত সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়েও মার্কিন প্রশাসন ঢাকার অবস্থান জানতে আগ্রহী বলে মনে করা হচ্ছে।
চিনের পাশাপাশি পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সুসম্পর্কও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সম্প্রতি তুরস্কের বিদেশমন্ত্রীর ঢাকা সফর এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একই সময়ে পাকিস্তানের সঙ্গেও বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে খবর।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এই সফরে আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা এবং তাঁকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলের অবস্থান নিয়ে জল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কেও ওয়াশিংটনের আগ্রহ রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের দাবি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ৫ মাসে তারেক রহমান সরকারের কার্যকলাপ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানের মূল্যায়নের পরই সার্জিও গোর ঢাকা সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তর কৌশলগত সমীকরণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করতে পারে।




