এ বছর ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক ছবি একেবারেই আলাদা। এক সময় তৃণমূল কংগ্রেসের একক কর্মসূচির পরিচিত এই দিনটি এ বার তিনটি পৃথক রাজনৈতিক মঞ্চে ভাগ হয়ে গিয়েছে। তারামণ্ডলের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের সভা, রেড রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের কর্মসূচি এবং শহিদ মিনারে প্রদেশ কংগ্রেসের শহিদ দিবস পালন।
শহিদ মিনারের সমাবেশে যোগ দিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতামুখী কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর এবং পথে পথে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ঘটনার জন্য বিজেপিকেই দায়ী করেছে প্রদেশ কংগ্রেস।
কংগ্রেসের দাবি, পূর্ব মেদিনীপুরের প্রায় প্রতিটি ব্লক থেকেই কলকাতাগামী দলীয় গাড়িকে প্রশাসনের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। জেলার বিভিন্ন মোড়ে পুলিশি নজরদারির আড়ালে বিজেপি কর্মীরা কংগ্রেস সমর্থকদের আটকে দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা সুমন রায় চৌধুরীর অভিযোগ, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর, বোরজোড়া-সহ একাধিক এলাকায় কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের আটকানো এবং মারধর করা হয়েছে। তাঁর কটাক্ষ, ‘এটাই কি মুখ্যমন্ত্রীর ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’?’ একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, ‘এত তাড়াতাড়ি উর্দি বদল করবেন না, গণতন্ত্র সুনিশ্চিত করুন।’
অন্য দিকে, আমতলা, ব্যারাকপুর এবং বাসুদেবপুর থানা সংলগ্ন এলাকাতেও কংগ্রেসের গাড়ির উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, মোটরবাইকে আসা একদল দুষ্কৃতী কংগ্রেস নেতৃত্বের উপর হামলা চালায়। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
কাটোয়া স্টেশনে শহিদ মিনারের উদ্দেশে রওনা দেওয়া যুব কংগ্রেস কর্মীদের উপর অতর্কিত হামলার অভিযোগও উঠেছে। একই ধরনের অভিযোগ এসেছে দুর্গাপুর, মুর্শিদাবাদের ডোমকল এবং উত্তর ২৪ পরগনার নোয়াপাড়া বিধানসভা এলাকার শিউলি মোহনপুর থেকেও। কংগ্রেসের দাবি, একাধিক জায়গায় বিজেপির পতাকা হাতে থাকা দুষ্কৃতীরা দলীয় গাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং কর্মীদের উপর হামলা চালিয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির তরফে তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।




