• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 21 July, 2026

রাজ্যে বিশ্বমানের চিকিৎসা পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, বিধানসভায় বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

দালালরাজ সরকারি হাসপাতালে বন্ধ করতেও উদ্যোগী হয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসা হচ্ছে তার জন্য

রাজ্যে বিশ্বমানের চিকিৎসা পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হবে, বিধানসভায় বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

Sharadwat Mukherjee Photo-SNS

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং চিকিৎসার পরিকাঠামোকে নতুন রূপ দিতে চায় বিজেপি সরকার। তাই সরকারি হাসপাতালগুলিতে সারপ্রাইজ ভিজিট করে যাচ্ছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। আর সোমবার বিধানসভায় এসে একগুচ্ছ পরিকল্পনা পেশ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ সহায়তার আওতায় প্রায় ৭৫৪ কোটি টাকার কাজ শুরু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বাজেটের সার্বিক নিরিখে প্রায় হাজার হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচের রূপরেখা তুলে ধরে পশ্চিমবঙ্গকে বিশ্বমানের চিকিৎসা পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছেন শারদ্বত। ইতিমধ্যেই নানা উদ্যোগ নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এদিকে রাজ্যে চালু হয়েছে আয়ুষ্মান ভারত। যাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না তাঁদের জন্য নিয়ে আসা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা। তার সঙ্গে সরকারি হাসপাতালগুলিতে নানা পরিষেবার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। সেগুলি এদিন বিধানসভায় জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ১৩১টি পেইং বেড, কেবিন এবং মডিউলার ওটি-সহ নতুন ১০ তলা উডবার্ন ওয়ার্ড এবং রোবোটিক সার্জারি চালু হচ্ছে। কার্ডিওলজিতে মিলবে দ্বিতীয় ক্যাথল্যাব এবং লি রোডে হবে স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের আবাসন। এসএসকেএম এবং এনআরএস হাসপাতালে বসছে ১২৮-স্লাইস সিটি স্ক্যান। কলকাতা ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নতুন ক্যাথল্যাব এবং কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ৬ তলা নতুন রোগী পরিষেবা ভবন তৈরি হতে চলেছে। পিপিপি মডেলে রাজ্যে পাঁচটি আঞ্চলিক চিকিৎসা কেন্দ্রও গড়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

অন্যদিকে দালালরাজ সরকারি হাসপাতালে বন্ধ করতেও উদ্যোগী হয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আসা হচ্ছে তার জন্য। সে কথা আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রী। এবার দালালরাজ বন্ধ করতে জিপিএস ট্র্যাকিং-সহ অ্যাপ-ক্যাব অ্যাম্বুলেন্স চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি বিধানসভায় জানান, সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার হওয়া রোগীদের জন্য বেসরকারি হাসপাতালের মোট শয্যার ১০ শতাংশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সংরক্ষিত থাকবে। নদী-জঙ্গল নিয়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের জন্য থাকছে ৬টি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স এবং দুটি ভাসমান মোবাইল মেডিকেল ইউনিট। আর বাড়ি বাড়ি পরিষেবা দিতে তৈরি ২১০টি এবং সুডার মাধ্যমে শহরাঞ্চলের জন্য আরও ১০০টি আধুনিক মোবাইল মেডিকেল ইউনিট নামানো হচ্ছে।

তাছাড়া শহর থেকে গ্রামে প্রত্যেকটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো হবে বলেও জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এদিন বিধানসভায় শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, কন্ট্রোল রুম থেকে সমস্ত সরকারি এবং পরবর্তীকালে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে সর্বক্ষণ নজরদারি চালানো হবে। সুন্দরবনে ২১টি নতুন প্রসব কেন্দ্র এবং চার জায়গায় নতুন এসএনসিইউ ইউনিট গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রবীণদের জন্য মহকুমা হাসপাতালগুলিতে মিউজিক থেরাপি এবং জেলাগুলিতে জেরিআট্রিক ক্লিনিক শুরু করা হচ্ছে। ভেলোর ও মুম্বইয়ে চিকিৎসা করতে যাওয়া রাজ্যের রোগীদের সুবিধার্থে সাশ্রয়ী আবাসনের সংস্থান করা হচ্ছে। রাজ্যের সর্বজনীন স্বাস্থ্যসুবিধা বজায় রাখতে আয়ুষ্মান ভারতের পাশাপাশি প্রত্যেক পরিবার পিছু ৫ লাখ টাকার রাজ্য বিমা সুনিশ্চিত করা হবে।