• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 18 July, 2026

হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে ২টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংসের দাবি ইরানের,  অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের হুমকির মোকাবিলায় দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আবার নৌ অবরোধ জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হরমুজ়ে ইরানের হামলা রোধ করতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে রাতভর বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। শুক্রবার সংঘাত আরও তীব্র হয়।

হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে ২টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংসের দাবি ইরানের,  অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

Photo: Statesman

আমেরিকা ও ইরানের সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ফের নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার ইরান দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালীর দক্ষিণে মাইন বিস্ফোরণে ২টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ধ্বংস হয়েছে। এদিকে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, শনিবার সকালে হরমোজগান প্রদেশের একাধিক এলাকায় মার্কিন হামলায় ৩ জন নিহত ও অন্ততপক্ষে ৮ জন আহত হয়েছেন। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী।

ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসির দাবি, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বিভ্রান্তিকর নির্দেশ মেনে ট্যাঙ্কার ২টি হরমুজের দক্ষিণে মাইন পাতা এলাকায় ঢুকে পড়ে। তারপরই ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। আগুনে জাহাজ ২টি পুড়ে যায়। জাহাজগুলি কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল বা জাহাজগুলিতে কতজন নাবিক ছিলেন সেই বিষয়ে কোনও তথ্য দেয়নি তেহরান। আইআরজিসি নাবিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, মাইন পাতা এলাকায় প্রবেশ না করতে।

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম ইরানের এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ট্যাঙ্কার ধ্বংসের কোনও প্রমাণ নেই। বরং ইরানের বেশিরভাগ দাবির মতো এটিও মিথ্যা। সেই সঙ্গে সেন্টকম জানিয়েছে, নাবিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে হরমুজের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়াই উচিত। ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণের দাবির পাশাপাশি শনিবার ইরান আরও দাবি করেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অভিযান চালিয়ে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার চেষ্টা করছিল ৪টি জাহাজ। তাদের থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, এই জাহাজগুলি মার্কিন সেনাবাহিনীর মদতপুষ্ট ছিল। এই দাবি নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি আমেরিকা।

এরই মধ্যে ১ সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালী বন্ধ রাখার ঘোষণা করেছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর বেশির ভাগ অংশ এখন নিরাপদ নয়। তারা ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজগুলিকে কেবল ইরানের উপকূল ঘেঁষা উত্তর দিকের নির্দিষ্ট চ্যানেল ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষায় থাকা দক্ষিণের করিডোরও এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে। তেহরানের হুঁশিয়ারি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ না করলে হরমুজ পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

হরমুজকে ঘিরে ইরানের এই অবস্থানের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও চাপ বাড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের হুমকির মোকাবিলায় দেশটির বন্দরগুলোর ওপর আবার নৌ অবরোধ জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হরমুজে ইরানের হামলা রোধ করতে ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে রাতভর বিমান হামলা চালানো হচ্ছে। শুক্রবার সংঘাত আরও তীব্র হয়। যখন কুয়েত ও জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ইরানের বিরুদ্ধে। তার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে  ফের সামরিক সংঘাত জোরদার আকার ধারণ করে।

ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মার্কিন হামলা বন্ধ না হলে তারা আরও বড় সামরিক পদক্ষেপ করবে। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী। তাই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে উত্তেজনা যত বাড়ছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক বাজার ও বিশ্ব বাণিজ্যে। পরিস্থিতির দিকে নজর রয়েছে গোটা বিশ্বের।