কলকাতার আরজি কর কাণ্ড (R G Kar hospital incident) থেকে বারুইপুরের ক্ষোভের আগুন এখনও ধিকিধিকি জ্বলছে। নারী নিরাপত্তা এবং চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে যখন চারিদিকে উঠছে একাধিক প্রশ্ন, ঠিক তখনই এক মর্মান্তিক ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court of India)। এক নাবালিকা ধর্ষণ নির্যাতিতাকে (minor rape survivor) স্রেফ আর্থিক কারণে চিকিৎসা করতে অস্বীকার করল একাধিক নামী হাসপাতাল! এই চরম অমানবিক ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে রীতিমতো ধমক দিল সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতিদের স্পষ্ট প্রশ্ন, মেয়েটি গরিব বলেই কি তাঁর সঙ্গে এই আচরণ? যদি কোনও ধনী বা প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হতো, তাহলেও কি হাসপাতালগুলি এভাবেই মুখ ফিরিয়ে নিত?
কেন চিকিৎসা অমিল
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, চরম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়া ওই নাবালিকা চিকিৎসার জন্য একের পর এক হাসপাতালের দরজায় ঘুরেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, দেশের প্রথম সারির বেশ কয়েকটি হাসপাতাল তাকে ভর্তি নিতে (refusal of admission) অস্বীকার করে। কোথাও শয্যা খালি না থাকার অজুহাত দেওয়া হয়, আবার কোথাও পরোক্ষভাবে আর্থিক সামর্থ্য না থাকার কারণকে কাঠগড়ায় তোলা হয়।
এই চরম গাফিলতির বিষয়টি শীর্ষ আদালতের নজরে আসতেই তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিচারপতিরা। দেশের বিচারব্যবস্থার সর্বোচ্চ মঞ্চ থেকে সাফ জানানো হয়, কোনও নাগরিককে, বিশেষত একজন যৌন নির্যাতনের শিকার নাবালিকাকে চিকিৎসার অধিকার (right to medical treatment) থেকে এভাবে বঞ্চিত করা আইনত ও মানসিকভাবে অপরাধ।
শীর্ষ আদালতের কড়া নির্দেশ ও বার্তা
মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ অত্যন্ত কড়া ভাষায় হাসপাতালগুলির এই মানসিকতার সমালোচনা করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশিকাগুলি হলো:
১. রোগীর আর্থিক পরিস্থিতি (financial status) বা সামাজিক অবস্থান দেখে কখনওই চিকিৎসার পরিষেবা নির্ধারণ করা যাবে না।
২. নির্যাতিতা নাবালিকাকে অবিলম্বে দেশের সেরা চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নতমানের চিকিৎসা (free medical treatment) দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. কেন ওই হাসপাতালগুলি নাবালিকাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল, তার সপক্ষে উপযুক্ত কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
দেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রশ্ন
এই ঘটনাটি আরও একবার দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো (health infrastructure) এবং মানবিকতার কঙ্কালসার রূপটিকে জনসমক্ষে এনে দিল। গোটা দেশে যেখানে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ (Health for All) স্লোগান তোলা হয়, সেখানে একজন গণধর্ষণের শিকার নাবালিকাকে এই চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ধরনের অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি পদক্ষেপ (legal action) না করলে সমাজের প্রান্তিক স্তরের মানুষেরা চিরকালই বিচার ও চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থেকে যাবেন।




