• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 17 July, 2026

এআই নয়, সত্যিই লামিন ইয়ামালকে কোলে নিয়েছিলেন মেসি! ভাইরাল ছবির নেপথ্যের সত্য জানাল ইউনিসেফ

সংস্থার ব্যাখ্যা, প্রায় ১৯ বছর আগে ইউনিসেফের তহবিল সংগ্রহের একটি ফটোশ্যুটে মেসির সঙ্গে দেখা হয়েছিল শিশু লামিন ইয়ামাল

এআই নয়, সত্যিই লামিন ইয়ামালকে কোলে নিয়েছিলেন মেসি! ভাইরাল ছবির নেপথ্যের সত্য জানাল ইউনিসেফ

Messi-Yamal Photo-SNS

বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামাল মুখোমুখি হওয়ার আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে ভাইরাল হয়েছে একটি পুরনো ছবি। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অল্পবয়সি মেসি একটি শিশুকে স্নান করাচ্ছেন। সেই শিশুই বর্তমানের স্পেন তারকা লামিন ইয়ামাল। ছবিটি নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ ছিল—এটি কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র তৈরি? সেই জল্পনাতেই এবার ইতি টানল ইউনিসেফ। ইউনিসেফ স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘হ্যাঁ, আপনারা যে ছবিগুলি দেখেছেন, সেগুলি একেবারেই সত্যি’।

সংস্থার ব্যাখ্যা, প্রায় ১৯ বছর আগে ইউনিসেফের তহবিল সংগ্রহের একটি ফটোশ্যুটে মেসির সঙ্গে দেখা হয়েছিল শিশু লামিন ইয়ামাল ও তাঁর মা শিলা এবানার। সেই সময়েই তোলা হয়েছিল এই ভাইরাল ছবিগুলি। ঘটনাটি ২০০৭ সালের। তখন মেসি বার্সেলোনার উঠতি তারকা। অন্যদিকে ইয়ামালের বয়স মাত্র ছ’মাস। এফসি বার্সেলোনা ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে একটি চ্যারিটি ক্যালেন্ডারের জন্য আয়োজন করা হয়েছিল ওই ফটোশ্যুট। লটারিতে জিতে ইয়ামালের পরিবার সেই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। ক্যালেন্ডার বিক্রির অর্ধেক অর্থ শিশুদের অধিকার রক্ষায় ইউনিসেফের প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছিল।

ইউনিসেফ কাতালোনিয়ার লায়া রুইচ সেই দিনের স্মৃতি তুলে ধরে বলেন, ‘ফটোগ্রাফার জোয়ান মনফোর্ত জানিয়েছিলেন, লামিনে ইয়ামাল মেসির মন জয় করে নিয়েছিল, কারণ ও সবসময় হাসিখুশি ছিল’। এরপর কেটে গিয়েছে প্রায় দুই দশক। একদিকে ৩৯ বছরের মেসি, অন্যদিকে ১৯ বছরের ইয়ামাল। দু’জনেই বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া অ্যাকাডেমির প্রাক্তনী, তারা রবিবার বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিপক্ষ হিসেবে মুখোমুখি হতে চলেছেন। শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও দু’জনের মধ্যে রয়েছে আর-একটি মিল। দু’জনেই এখন ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত।

এই প্রসঙ্গে ইউনিসেফ জানিয়েছে, ‘আজ মাঠে তাঁদের সাফল্য কোটি কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। মাঠের বাইরে মেসি এবং লামিন ইয়ামাল—দু’জনেই ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত হিসেবে বিশ্বের শিশুদের পাশে দাঁড়াতে নিজেদের কণ্ঠস্বর ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগাচ্ছেন’।সংস্থাটি আরও বলেছে, ‘লক্ষ্য একটাই—প্রত্যেক শিশু যেন বেঁচে থাকতে পারে, বিকশিত হতে পারে এবং নিজের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছতে পারে। ওঁরা আমাদের দলের সদস্য—এটা নিয়ে আমরা গর্বিত’। যে ছবিটিকে অনেকেই প্রথমে এআই-র কারসাজি বলে মনে করেছিলেন, সেটিই এখন বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আবেগময় প্রতীক হয়ে উঠেছে। এক সময় যে তরুণ মেসি শিশুকে কোলে নিয়ে স্নান করিয়েছিলেন, প্রায় দুই দশক পরে সেই ইয়ামালের বিরুদ্ধেই বিশ্বকাপ ট্রফির লড়াইয়ে নামতে চলেছেন।