• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 17 July, 2026

‘ছাপ্পা হলে ৯৩.৭% ভোট পড়ত না’, বাংলার নির্বাচন নিয়ে ফের সরব জ্ঞানেশ কুমার, তৃণমূলের নাম-প্রতীক বিতর্কেও কটাক্ষ

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে নয়াদিল্লির দ্বারকার ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি

‘ছাপ্পা হলে ৯৩.৭% ভোট পড়ত না’, বাংলার নির্বাচন নিয়ে ফের সরব জ্ঞানেশ কুমার, তৃণমূলের নাম-প্রতীক বিতর্কেও কটাক্ষ

জ্ঞানেশ কুমার PIC-SNS

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে নয়াদিল্লির দ্বারকার ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্টে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত হয় সর্বভারতীয় মিডিয়া সম্মেলন। দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা ওই সম্মেলনে যোগ দেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনকে উৎসাহ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার সঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে আরও পরিচিত করে তোলা।

তবে সম্মেলনের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের নাম-প্রতীক বিতর্ক— একাধিক স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন তিনি।

 

বাংলার ভোট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধীদের তোলা ‘ছাপ্পা’ ও ‘বুথ জ্যামিং’-এর অভিযোগ কার্যত উড়িয়ে দিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের সাফ বক্তব্য, ‘কোথায় ছাপ্পা হয়েছে? কোথায় বুথ জ্যামিং হয়েছে? যদি তা-ই হতো, এত বিপুল ভোট পড়ত না। বাংলা আগে এমন নির্বাচন দেখেনি।’

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই কাজ করেছে। কোনও রাজনৈতিক দলের নির্দেশে নয়, সংবিধান ও আইন মেনেই কমিশনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও বাংলার প্রসঙ্গে বেশি কিছু বলতে চান না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়কার অভিজ্ঞতা খুব একটা সুখকর ছিল না। আমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু আমি কারও অঙ্গুলিহেলনে কাজ করিনি। কমিশন শুধুমাত্র নিয়ম মেনেই তার দায়িত্ব পালন করেছে।’

 

এরপরই তিনি তুলে ধরেন বাংলার রেকর্ড ভোটদানের পরিসংখ্যান। ৪ মে প্রকাশিত বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর দেখা যায়, রাজ্যে প্রায় ৯৩.৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীন। সেই প্রসঙ্গ টেনে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় বাধ্যতামূলক ভোটদান ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সেখানে ভোটের হার প্রায় ৯১ শতাংশ। সেই তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের ভোটদানের হার আরও বেশি।’ তাঁর দাবি, এই বিপুল ভোটদানের হারই প্রমাণ করে নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ, অবাধ এবং মানুষের আস্থার প্রতিফলন।

 

বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন প্রসঙ্গেও ফের নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে যা হয়েছে, তা দেশের অন্যান্য রাজ্যের মতোই নির্ধারিত নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা রাজনৈতিক অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

শুধু ভোট নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক নিয়ে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে চলা আইনি লড়াই নিয়েও মন্তব্য করেন জ্ঞানেশ কুমার। কালিঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত তৃণমূল— দুই পক্ষই নিজেদের দাবির পক্ষে নির্বাচন কমিশনের কাছে নথি জমা দিয়েছে। সেই প্রসঙ্গে হালকা রসিকতার সুরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আসল তৃণমূল কে, আর নকল তৃণমূল কে— আমি জানি না ভাই।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়েছিল। মমতার অভিযোগ ছিল, নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের শাসক দলের ইঙ্গিতে কাজ করছে। সেই অভিযোগের জবাবই যেন ফের দিলেন জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর বক্তব্য, কমিশন কখনও রাজনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করেনি; সংবিধান ও আইনই ছিল তাদের একমাত্র পথনির্দেশক।