• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 15 July, 2026

‘২০২৬ সালেও শুরু করার ক্ষমতা রাখি’, বেইমানদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন মমতা

যাঁরাই দল ছাড়ছেন তাঁরাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন। সেটা সাংসদ হোক বা বিধায়ক

‘২০২৬ সালেও শুরু করার ক্ষমতা রাখি’, বেইমানদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন মমতা

Mamata Banerjee Photo-SNS

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর তৃণমূল কংগ্রেস খান খান হয়ে গিয়েছে। কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত তৃণমূল হয়ে গিয়েছে। সাংসদদের একটা বড় অংশ এনসিপিআই দলে যোগ দিয়েছেন। একে একে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো সঙ্গীরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীতে গিয়ে ভিড়েছেন। বুধবারই মদন মিত্র যোগ দিয়েছেন সেখানে। কালীঘাট তৃণমূল থেকে বিধায়কদের বড় অংশ এখন ঋতব্রত গোষ্ঠীতে গিয়ে মিশেছে। সকলেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করে দল ছাড়ছেন। আর সেটা নিয়ে বেইমানদের মুখোশ খুলে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকী চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন তিনি দলত্যাগীদের।

এদিকে বুধবার ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ আক্রমণাত্মক মেজাজে দলের সাম্প্রতিক সংকটের কথা তুলে ধরেন। আর দলত্যাগীদের কড়া ভাষায় বার্তা দেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ, ‘বিজেপির নিজস্ব কোনও সংগঠন নেই, তাই পুলিশ এবং এজেন্সিকে ব্যবহার করে আমাদের সক্রিয় কর্মীদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, হয় ওদের কোলে গিয়ে দোলো, না হলে জেলে যাও। যাদের আমরা আমাদের প্রতীকে জিতিয়েছিলাম, তাদের অনেকেরই অনেক ‘লাগেজ-ব্যাগেজ’ ছিল, যা আমার জানা ছিল না। যাঁরা আজ এজেন্সির ভয়ে বিজেপির ওয়াশিং মেশিনে গিয়ে সাধু সাজছেন, তাঁদের চলে যেতে দিন। বুথ, ব্লক এবং জেলার যে কর্মীরা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, তাঁরাই আমার আসল সোনার খনি।’

অন্যদিকে যাঁরাই দল ছাড়ছেন তাঁরাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন। সেটা সাংসদ হোক বা বিধায়ক। এমনকী নেতারাও একই অভিযোগ করে দল ছাড়ছেন। বুধবার মদন মিত্র দল ছেড়ে ঋতব্রত গোষ্ঠীতে গেলেও দায়ী করেছেন অভিষেককে। অনুব্রত মণ্ডল ঋত-বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে সরাসরি অভিষেককে ধুয়ে দিয়েছেন। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, ‘দলের প্রতীক দেখে আপনারা ভোট দিয়েছিলেন। বেইমানদের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী। ১৯৯৭ সালে একা ছিলাম। লড়াই করেছি। এখন ১৮ জন সাংসদ আছে। আরও বিধায়ক আছে। সেই সময় পারলে, ২০২৬ সালেও শুরু করার ক্ষমতা রাখি। অভিষেক বাহানা মাত্র।  ওর ভুল মাফ হয়ে গিয়েছে। সে লড়ে যাচ্ছে। আগামী ৫০ বছর লড়বে।’

তাছাড়া এদিনই বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে কালীঘাট তৃণমূল। সেখানে সকলকে আসার আহ্বান করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এই দলত্যাগী বেইমানদের বার্তাও দিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাফ কথা, ‘অভিষেক আপনাদের কাছে খুব খারাপ হয়ে গেছে। ওটা আসলে আপনাদের দল ছাড়ার একটা সস্তা বাহানা। মনে রাখবেন, ওঁর স্ত্রী যখন দেড় বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন, তখন কোথায় ছিল আপনাদের নীতি? আজ ওঁর বিরুদ্ধে ২৫-৩০টি মামলা দেওয়া হয়েছে। তবুও সে মাঠ ছাড়েনি। সেটিং করে নিলে অভিষেক সবচেয়ে বেশি রেহাই পেত। কিন্তু সে মাথা নত না করে বাঘের মতো লড়ে যাচ্ছে। আগামী ৫০ বছর ওরাই এই দেশের রাজনীতি করবে। কে চলে গেল, তাতে দলের কিছু যায় আসে না। আমার সঙ্গে লক্ষ লক্ষ মানুষের আশীর্বাদ এবং কর্মীদের সততা আছে। যতক্ষণ লড়াই শেষ না হচ্ছে ততক্ষণ আমার কণ্ঠ কেউ রুদ্ধ করতে পারবে না। বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামে মিটিং হবে। আমি প্রতিবারের মতো ২০ জুলাই জায়গা পরিদর্শনে যাব। আমি পুলিশকে অনুরোধ করব যেন বিজেপি এবং সেটিং পার্টি কোনও ঝামেলা না করতে পারে সেটা দেখতে। ডেকরেটার্স মাইকদের ভয়ও দেখাতে পারে। তবে মনে রাখবেন খালি গলাতেও সভা করতে পারি। বলেছি যখন তখন মিটিং হবেই।’