• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 14 July, 2026

মেসির প্রিয় রেফারি’ই ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা মহারণে! সেমিফাইনালের আগে নতুন বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে ফিফা

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের আগেই শুরু হল এক নতুন বিতর্ক। ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মার্কিন

মেসির প্রিয় রেফারি’ই ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা মহারণে! সেমিফাইনালের আগে নতুন বিতর্ক, প্রশ্নের মুখে ফিফা

Pic-X

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের আগেই শুরু হল এক নতুন বিতর্ক। ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মার্কিন রেফারি ইসমাইল এলফাথকে। আর সেই ঘোষণার পর থেকেই ইংল্যান্ডের সমর্থকদের একাংশের মধ্যে জন্ম নিয়েছে প্রবল ক্ষোভ। কারণ, তাঁদের দাবি, এই রেফারিকেই নাকি লিওনেল মেসির ‘লাকি রেফারি’ বলা হয়।

 

মার্কিন মুলুকে বসবাসকারী মরক্কোজাত এলফাথ দীর্ঘদিন ধরেই মেজর লিগ সকার (এমএলএস)-এ ম্যাচ পরিচালনা করছেন। ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর একাধিকবার মেসির ম্যাচেও বাঁশি মুখে নিয়ে নেমেছেন তিনি। সেই সব ম্যাচেই জিতেছে মেসির দল। শুধু তাই নয়, ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স ম্যাচে তিনি ছিলেন চতুর্থ রেফারি। ফলে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের একাংশের দাবি, এই নিয়োগ আর্জেন্টিনার জন্য শুভ ইঙ্গিত, কিন্তু ইংল্যান্ডের জন্য নয়।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বহু ইংল্যান্ড সমর্থক। একজন লিখেছেন, ‘মেসি আর আর্জেন্টিনা প্রতি ম্যাচেই রেফারি ও ফিফার কাছ থেকে সুবিধা পাচ্ছে। এবারও কি তার ব্যতিক্রম হবে?’ আবার অন্য এক সমর্থকের মন্তব্য, ‘ইংল্যান্ডের ভাগ্যে কী অপেক্ষা করছে, সেটা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তা’।

 

এই বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। মিশরের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচ এবং সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালের পরও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ভিএআর সিদ্ধান্ত এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রেফারির ভূমিকা নিয়ে বিরোধী শিবির সরব হয়েছিল। সেই আবহেই আবার এলফাথকে দায়িত্ব দেওয়ায় বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

 

তবে এলফাথের অভিজ্ঞতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই। ২০১৬ সাল থেকে তিনি ফিফার তালিকাভুক্ত রেফারি। ২০২২ বিশ্বকাপে দায়িত্ব সামলেছেন, অলিম্পিক, ক্লাব বিশ্বকাপ, আফ্রিকা কাপ অব নেশনস-সহ একাধিক বড় টুর্নামেন্টেও ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। চলতি বিশ্বকাপেও তিনি ইতিমধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাঁশি বাজিয়েছেন।

 

এদিকে, ইংল্যান্ড শিবির প্রকাশ্যে রেফারি নিয়ে কোনও মন্তব্য না করলেও, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ফিফার এই সিদ্ধান্ত আদৌ বিতর্ক এড়াতে পারবে কি? কারণ, একদিকে মেসির সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ, অন্যদিকে ১৯৬৬-র পর এই প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে বিভোর ইংল্যান্ড। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচের ফল যেন শুধু ফুটবলারদের পারফরম্যান্সেই নির্ধারিত হয়, রেফারির সিদ্ধান্তে নয়—এটাই চাইছেন বহু ফুটবলপ্রেমী।