একজন জেলে। আর একজন অন্য গোষ্ঠীতে গিয়ে ভিড়েছে। শুধু তাই নয়, থানায় গিয়ে হাজিরা দিতে হচ্ছে তাঁকে। এই দু’জনকে এবার ক্লাবের কমিটি থেকে ছেঁটে ফেলল সুরুচি সংঘ। হ্যাঁ, একজন অরূপ বিশ্বাস অপরজন স্বরূপ বিশ্বাস। এই বিশ্বাস ব্রাদার্সকে এবার ছেঁটে ফেলা হয়েছে। স্বরূপ বিশ্বাস শ্লীলতাহানির অভিযোগে জেল খাটছেন। আর অরূপ বিশ্বাস মেসি কাণ্ডের পর গা-ঢাকা দিয়ে থাকলেও এখন ঋতব্রত গোষ্ঠীর সঙ্গে ভিড়ে গিয়েছে। এই দু’জনকে এখন আর মানুষ বিশ্বাস করে না। তাই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিতে ঠাঁই পেলেন না দুই ভাই। এমনকী তাঁর ঘনিষ্ঠদেরও জায়গা হয়নি না কমিটিতে। নতুন করে সাজানো হয়েছে সুরুচি সংঘের ক্লাবের কমিটি। ওই কমিটিতে সম্পাদক পদে বসানো হয়েছে বিধায়ক সৌরভ শিকদারকে।
এদিকে সুরুচি সংঘ বরাবরই বিশেষ থিমের দুর্গাপুজো করে খ্যাতি অর্জন করেছে। ওই পুজোকে সামনে রেখে টাকা তোলা হতো বলেও অভিযোগ দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, গুন্ডামি, ভোট পরবর্তী হিংসা, দুর্নীতি-সহ নানা অভিযোগ রয়েছে। নিউ আলিপুরের সুরুচি সঙ্ঘের পুজোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নাম জড়িয়ে রয়েছে অরূপ বিশ্বাসের। আর মন্ত্রী থাকাকালীন তো তার বহর চরমে উঠেছিল। ওই পুজোকে সামনে রেখে নানা অনৈতিক কাজ করেছেন দুই ভাই বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকী, একটা সময় সুরুচি সংঘের দুর্গাপুজো অরূপ বিশ্বাসেরই পুজো হয়ে উঠেছিল। পুজোর অংশ হয়ে উঠেছিলেন ভাই স্বরূপও। এবার পালাবদলের বঙ্গে দুজনকেই ছেঁটে ফেলল ক্লাব।
অন্যদিকে কদিন আগে সুরুচি সংঘের চারটি প্লট খালি করার নোটিস দিয়েছিল এলআইসি। পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়েছিল। এই পুজোকে সামনে রেখে টাকা তোলা হয়েছিলও বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তার সঙ্গে দুই ভাই জড়িত বলেও অভিযোগ ওঠে। এই কারণে তাঁদের আর দায়িত্বে রাখতে চাননি সুরুচি সংঘের কর্তৃপক্ষ। এবার পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হলো বিশ্বাস ব্রাদার্সকে। নতুন যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তাতে সম্পাদক পদে রাখা হয়েছে বিধায়ক সৌরভ শিকদারকে। আর সহ-সভাপতি পদে করা হয়েছে দক্ষিণ কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি অনুপম ভট্টাচার্যকে।
তাছাড়া ঋতব্রত শিবিরে গিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদও পেয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। কিন্তু তারপরও বাদ পড়তে হলো তাঁকে। আবার অরূপ বিশ্বাসের ঘাড়ে ঝুলছে মেসি মামলা। তার জন্য বারবার থানার চক্কর কাটতে হচ্ছে। কলকাতা হাইকোর্টে ছুটতে হচ্ছে। এমন একজনকে ক্লাবে রাখলে ভাবমূর্তি খারাপ হবে। স্বরপকে তো রাখার কোনও বিষয়ই নেই। কারণ তিনি এখন জেলে।




