খোদ দক্ষিণ কলকাতার বুকে পুলিশ সেজে ব্যবসায়ীর অফিস থেকে ২ কোটি টাকা লুঠ করল এক দুষ্কৃতী গ্যাং। এই ঘটনা সামনে আসতেই আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। তল্লাশির নাম করে এই গ্যাং ঢোকে ব্যবসায়ীর অফিসে। তারপর চলে সেখানে দেদার লুঠপাট। টালিগঞ্জ থানা এলাকার প্রতাপাদিত্য রোড অত্যন্ত পশ জায়গা। সেখানে এমন ঘটনা ঘটতে পারে তা কেউ কল্পনাও করতে পারে না। সেখানে ব্যবসায়ীর অফিসে ঢুকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে রীতিমতো চমকে বিপুল পরিমাণ টাকা লুঠ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তদন্তে নেমেছে লালবাজার।
এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের হতেই সক্রিয় হয়ে ওঠে পুলিশ এবং লালবাজার। তদন্তে নেমে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি কারা জড়িত ধৃতকে জেরা করে নাগাল পেতে চাইছে পুলিশ। আরও এমন ঘটনা এই গ্যাং করেছে কিনা সেটা জানতেও চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে এই ঘটনা নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে প্রতাপাদিত্য রোড এলাকায়। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় ওই এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাজারে এই নিয়ে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। প্রতাপাদিত্য রোড এলাকার ঠিক পিছনে রয়েছে টালিগঞ্জ থানা। আর এই থানার একদিকে রাসবিহারী মোড়। অপরদিকে মুদিয়ালির পিএসসি বিল্ডিং। মাঝখানে যে রাস্তা ভিতরে ঢুকেছে সেটি সার্দান অ্যাভিনিউ এলাকা।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত শুক্রবার প্রতাপাদিত্য রোডের একটি অফিসে পৌঁছয় এই গ্যাং। তারপর ওই ব্যবসায়ীকে তারা জানায়, গোয়েন্দা দপ্তরের পুলিশ তারা। নির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে তারা তল্লাশি চালাতে এসেছে। এমনকী ওই গ্যাং দাবি করে, ওই অফিসে আয় বহির্ভূত বিপুল টাকা রয়েছে। ওই বিপুল টাকার সন্ধানেই তল্লাশি চলবে। পুলিশ সেজে যারা এসেছিল তারা ভুয়ো পরিচয়পত্রও দেখায়। যা সহজে সাধারণ চোখে ভুয়ো বলে মনেই হবে না। এভাবেই রীতিমতো চমকে পুলিশের কায়দায় কেড়ে নেয় ব্যবসায়ী এবং অন্য কর্মচারীদের মোবাইল। তারপর চলে দেদার লুঠপাট।
তাছাড়া ওই ভুয়ো পুলিশের গ্যাং অফিসের কর্মচারীদের ভয় দেখাতে শুরু করে বলে অভিযোগ। আর ভয় দেখিয়েই সিন্দুকের চাবি নিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে রাখা ২ কোটি টাকা লুঠ করে নেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ তো টাকা লুঠ করবে না। এই জায়গা থেকেই সন্দেহ হওয়ায় লুঠপাটের অপারেশন শেষ হতেই টালিগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যবসায়ী। লালবাজারের গোযেন্দা বিভাগ এবং টালিগঞ্জ থানার পুলিশ অফিসাররা তদন্তে নেমে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন। সেখান থেকেই গোটা ঘটনা তাঁদের সামনে চলে আসে। আর এই গ্যাংয়ের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতকে জেরা করে আসিফ নামে একজনের কথা পুলিশ জানতে পেরেছে। বাকি টাকা এবং গোটা গ্যাংকে ধরতে পুলিশ নেমে পড়েছে।




