বারবার ভোট, বারবার আদর্শ আচরণবিধি জারি, আর তার জেরে থমকে থাকা উন্নয়ন, এই পুরনো নির্বাচনী চক্রে এবার স্থায়ী ইতি টানতে চাইছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। লক্ষ্য, ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের সঙ্গে দেশজুড়ে বিধানসভার ভোটও একসঙ্গে সম্পন্ন করা। সেই লক্ষ্যে সংসদের যৌথ কমিটি বা জেপিসি দ্রুত কাজ করছে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন কমিটির চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী প্রেমপ্রসাদ চৌধুরী।
দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে রাজনৈতিক দল, মন্ত্রী, বিধায়ক, আইনজ্ঞ, প্রশাসনিক আধিকারিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করে কমিটি মতামত সংগ্রহ করছে। শুক্রবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে চৌধুরী দাবি করেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রতিনিধি ‘এক দেশ, এক নির্বাচন’-এর পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘এমন একটি আইনগত কাঠামো গড়ে তোলাই এখন লক্ষ্য, যাতে ২০২৯-এ লোকসভা ও বিধানসভার পাশাপাশি স্থানীয় স্তরের নির্বাচনও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা যায়।’
কেন্দ্রের যুক্তি, দেশে প্রায় সারা বছরই কোথাও না কোথাও নির্বাচন চলতে থাকায় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হয় এবং বিপুল অর্থের অপচয় ঘটে। চৌধুরীর দাবি, ঘনঘন নির্বাচনের কারণে দেশের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়। একসঙ্গে ভোট হলে নির্বাচন পরিচালনার খরচ যেমন কমবে, তেমনই বারবার আদর্শ আচরণবিধি জারির ফলে উন্নয়ন প্রকল্প আটকে থাকার প্রবণতাও কমবে। নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মীদেরও বারবার ভোটের কাজে টেনে আনতে হবে না। সব মিলিয়ে জিডিপির হার ১.৬ শতাংশ বাড়বে।
প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ ইতিমধ্যেই নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে মোদী সরকার। সেই রিপোর্টে প্রথম পর্যায়ে লোকসভা ও বিধানসভার নির্বাচন একসঙ্গে এবং তার ১০০ দিনের মধ্যে পুরসভা ও পঞ্চায়েতের ভোট করার প্রস্তাব রয়েছে।
তবে এই পথ মোটেই মসৃণ নয়। এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদ সংশোধন প্রয়োজন। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থনের পাশাপাশি অন্তত অর্ধেক রাজ্যের বিধানসভার অনুমোদনও লাগবে। আর সেখানেই বড় রাজনৈতিক লড়াই। তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি-সহ একাধিক বিরোধী দল শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের দাবি, এতে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং রাজ্যভিত্তিক রাজনৈতিক বাস্তবতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তবে জেপিসি প্রধানের বক্তব্যে স্পষ্ট, আপত্তি সত্ত্বেও পিছিয়ে আসার প্রশ্ন নেই। প্রযুক্তিগত ও আইনি সমস্ত জটিলতা মিটিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরির কাজ এগোচ্ছে। এখন কেন্দ্রের লক্ষ্য, আসন্ন সংসদ অধিবেশনগুলিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী পাস করিয়ে ২০২৯-এর আগেই স্বাধীন ভারতের অন্যতম বৃহত্তম নির্বাচনী সংস্কারের পথ প্রশস্ত করা।




