রাজ্যে তৎকালীন সরকারের আমলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আর্থিক অনিয়ম ও সরকারি অর্থ ব্যবহারের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করল রাজ্য সরকার। গত বাজেট অধিবেশনেই অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেছিলেন, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রকল্পভিত্তিক অর্থ বরাদ্দ, সরকারি তহবিলের ব্যবহার, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সম্ভাব্য আর্থিক অনিয়মের তথ্য সংগ্রহ করে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে। সেই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার নবান্নে অনুষ্ঠিত হল এই উদ্দেশ্যে গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক।
নবান্ন সূত্রের খবর, অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের নেতৃত্বে গঠিত এই বিশেষ কমিটির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়, পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ-সহ একাধিক দফতরের মন্ত্রীরা। বৈঠকে শ্বেতপত্র তৈরির রূপরেখা, তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং বিভিন্ন দপ্তরের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি চাওয়ার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সূত্রের খবর, রাজ্যের প্রতিটি দপ্তরের সচিবদের কাছে গত ১৫ বছরের আর্থিক লেনদেন, প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়, সরকারি বরাদ্দ, আয়ের উৎস, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেই সমস্ত তথ্য ও নথি বিশেষ কমিটির কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।
বিশেষ কমিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল সরকারি অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে? সেই ব্যয়ের যৌক্তিকতা কতটা ছিল? প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি বা সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগের ভিত্তি রয়েছে কি না, তা নথিভিত্তিকভাবে খতিয়ে দেখা।
সরকারি সূত্রের দাবি, বিশেষ করে একটি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থ অন্য কোনও খাতে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যয় হয়েছে কি না অথবা কোনও অর্থ অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া বা অপচয় করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়গুলিও বিস্তারিতভাবে তদন্তের আওতায় আনা হবে।
নবান্ন সূত্রের খবর, প্রতিটি দপ্তরকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের আর্থিক লেনদেন, বরাদ্দ এবং বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট বিশ্লেষণ করেই কোথায় কোথায় আর্থিক অনিয়ম বা প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে, তার একটি সামগ্রিক মূল্যায়ন করবে বিশেষ কমিটি।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রীসভার বৈঠকেই অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের নেতৃত্বে এই বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবারের বৈঠকের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল।




