• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 9 July, 2026

‘ইরানের হিট লিস্টে আমি এক নম্বরে’, বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, এটি ছিল মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত। নতুন বিমানে এখনও পর্যন্ত পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়নি বলেই এই পদক্ষেপ।

‘ইরানের হিট লিস্টে আমি এক নম্বরে’, বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের

Photo: Statesman

ইরানের সঙ্গে ফের উত্তেজনা চরমে উঠেছে আমেরিকার। এরই মধ্যে বিস্ফোরক দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ইরানের তথাকথিত ‘হিট লিস্ট’-এর তালিকায় তিনি এক নম্বরে রয়েছেন। এমনকী মাঝআকাশে তাঁর বিমানে হামলা হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। সেই কারণেই নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশ সফর শেষে ফেরার পথে প্রেসিডেন্টের বিশেষ বিমান ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ একাধিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে গিয়ে ট্রাম্পের দাবি, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও তিনি সন্দিহান। তাঁর কথায়, ‘আগের নেতারা চলে গিয়েছেন, তাঁদের পর যারা এসেছিলেন তাঁরাও নেই। এখন নতুন নেতৃত্ব এসেছে। তারাও হয়তো চলে যাবে। আমিও হয়তো চলে যেতে পারি। কারণ, ওদের তালিকায় আমিই এক নম্বর লক্ষ্য।’ যদিও এই হিট লিস্টের পক্ষে তিনি কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।

ট্রাম্পের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ দেশের এবং বিশ্বের স্বার্থেই নিয়েছে আমেরিকা। তাঁর অভিযোগ, গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের শাসকগোষ্ঠী একই ধরনের নীতি অনুসরণ করে আসছে। তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমেরিকা বাধ্য হয়েছে। তুরস্ক থেকে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গেও এই প্রসঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের জানান, তাঁরা একটি ‘বিপজ্জনক বিমানে’ রয়েছেন। ইরান যদি তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়, তবে বিমানে থাকা অন্যরাও কিন্তু ঝুঁকির মুখে পড়বেন। নিরাপত্তার কারণে বিমানের জানালার পর্দা বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়। পরে অবশ্য পরিবেশ হালকা করতে রসিকতার সুরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হয়তো একদিন আপনারা পেশাই বদলে ফেলতে চাইবেন।’

এই সফরে নজর কেড়েছে আরও একটি বিষয়। কাতারের রাজপরিবারের উপহার দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি নিয়ে তুরস্কে গেলেও ফেরার সময় ট্রাম্প পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেন। জানা গিয়েছে, নতুন বিমানটি আগেই ব্রিটেনের মিলডেনহল বিমানঘাঁটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে পরে তিনি বিমান বদল করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, এটি ছিল মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত। নতুন বিমানে এখনও পর্যন্ত পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়নি বলেই এই পদক্ষেপ। যদিও মার্কিন প্রশাসনের সূত্রে জানানো হয়েছে, কোনও নির্দিষ্ট হামলার হুমকি ছিল না।

গত বছর কাতারের রাজপরিবার ট্রাম্প প্রশাসনকে বহু কোটি ডলার মূল্যের এই বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি উপহার দেয়। বিমানটিতে দ্রুত বদল এনে এবং তার আধুনিকীকরণের পর প্রেসিডেন্টের ব্যবহারের উপযোগী করা হয়েছে। তবে বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে এমন উপহার গ্রহণকে কেন্দ্র করে আমেরিকায় নৈতিক, সাংবিধানিক এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এদিকে, ইরানে মার্কিন হামলা এবং তার জবাবে পাল্টা উত্তেজনার আবহে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।