প্রবল বর্ষণে একেবারে বিপর্যস্ত মহারাষ্ট্র। টানা বৃষ্টিতে ভাসছে পূর্ব থেকে পশ্চিম ভারত। মহারাষ্ট্রে টানা দুই দিনে ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ১৩ জনের মত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি ১০ জন আহত হয়েছেন। প্রবল বৃষ্টিতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা, ভূমিধস, বাড়ি ধসে পড়ার মতো দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মুম্বাইতে যান চলাচলে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
রাজ্যের জরুরি পরিকল্পনা কেন্দ্র(এসইওসি) জানিয়েছে, প্রবল বৃষ্টিতে প্রায় ১০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনেক নদীর জল বিপদসীমা অতিক্রম করায় উদ্ধারকারী দল বিভিন্ন জেলায় উদ্ধারকাজ শুরু করেছে।
মুম্বাইয়ের মানখুর্দ এলাকায় সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেখানে একটি বাড়ি বস্তির উপরে ভেঙে পড়েছে। দুর্ঘটনায় ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি একজন আহত হয়েছেন। এছাড়া শহরের অন্য একটি এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। সাতারা জেলায় ভূমিধসে একজন মারা গিয়েছেন। এর পাশাপাশি চারজন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, পালঘর ও সিন্ধুদুর্গ জেলায় জলে ডুবে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সিন্ধুদুর্গে প্রবল ঝড়ো হাওয়ায় ৩০টি বাড়ি পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় লোনাভলায় ৬২৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে, যা সবথেকে বেশি। এর পাশাপাশি রায়গড়, থানে, রত্নাগিরি, পালঘর এবং মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকাতে ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে উলহাস, কালু, পিঞ্জাল, আম্বা, সাবিত্রী, কুন্দলিকা-সহ বেশ কয়েকটি নদীর জল বিপদসীমা ছাড়িয়ে গিয়েছে। ফলে একাধিক এলাকায় বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভূমিধসের আশঙ্কায় লোনাভলা, মাথেরান ও লোহাগড় পাহাড়ি এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর দুটি দল উদ্ধারকাজে মোতায়েন করা হয়েছে। পুনে ও রায়গড় জেলায় ভূমিধস ও বন্যায় আটকে পড়া বেশ কয়েকজনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
ভূমিধসের কারণে মুম্বাই-গোয়া সড়ক ও মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে-সহ আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। যদিও পরে কিছু রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন মহারাষ্ট্রে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।




