• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 7 July, 2026

পুতুল দেশের স্বপ্ন পূরণ, শিল্পীদের দাবি মেনে জিআই তকমা পেল বর্ধমানের নতুনগ্রাম

১৯৬৬ সালে কাঠ দিয়ে দশমাথার রাবণ তৈরি করে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিলেন এখানকার এক শিল্পী শম্ভুনাথ ভাস্কর

পুতুল দেশের স্বপ্ন পূরণ, শিল্পীদের দাবি মেনে জিআই তকমা পেল বর্ধমানের নতুনগ্রাম

Photo: Representational Image

অবশেষে দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণ হলো শিল্পীদের। জিআই তকমা পেল পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী ব্লকের নতুনগ্রামের কাঠের পুতুল। যে গ্রাম ‘পুতুলের দেশ’ নামে বিখ্যাত। এই গ্রামের প্রায় সকলেই কাঠের পুতুলের কারিগর। এটাই তাঁদের জীবন জীবিকা। কিন্তু দেশে-বিদেশে এই কাঠের পুতুলের পরিচিতি থাকলেও জিআই তকমার স্বীকৃতি ছিল না। বলা যায় জিআই তকমা আদায়ে শিল্পীদের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল। সেই দাবি পূরণ হওয়ায় উচ্ছাস ছড়িয়ে পড়েছে গ্রাম জুড়ে।

যতদূর জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের নতুন গ্রামে কাঠের পুতুলের শিল্প প্রায় দুশো বছরের পুরনো। বলা যায় রাজ্য, দেশের গন্ডি পার করে বিশ্বের বাজারে নতুনগ্রামের কাঠের পুতুলের পরিচিতি রয়েছে। এবার সেই নতুনগ্রামে তৈরি হওয়া কাঠের পুতুল জিওলজিক্যাল আইডেন্টিফিকেশন ( জিআই) তকমা পেল। এই সংক্রান্ত একটি শংসাপত্র শিল্পীদের হাতে এসেছে। শিল্পীরা কয়েক বছর আগে থেকেই এই স্বীকৃতির জন্য সরকারের কাছে দরবার করছিলেন বলে দাবি । অবশেষে পরিবর্তনের সরকারের আমলে জিআই স্বীকৃতি পেয়ে খুশি শিল্পী ও কারিগররা।

পূর্বস্থলী ২ ব্লকের নতুনগ্রামে গেলেই দেখতে পাওয়া যাবে সব ঘরেই কাঠের পুতুল তৈরির ব্যস্ততা। এক একটা পরিবারে ছোট-বড় সকলেই প্রায় এই পুতুল তৈরিতে দক্ষ। একটা সময় গাছের ডালি কেটে এই অভিনব ভাবনার পুতুল তৈরি শুরু হয়েছিল ওই গ্রামে। পরবর্তী সময়ে যন্ত্র দিয়ে কাঠ চেড়াই করে পুতুল বানানো শুরু হয় যা আজও চলছে। ব্যান্ডেল- কাটোয়া রেলপথের পাটুলি স্টেশন থেকে কিছুটা গেলেই যাওয়া যাবে নতুনগ্রাম। যে গ্রাম ‘পুতুলের দেশ’ বা ‘পুতুলের গ্রাম’ নামে পরিচিত।

এখানকার শিল্পীদের হাতে তৈরি পেঁচা, বর – কনে, জগন্নাথ-বলরাম- সুভদ্রা, গৌড় নিতাই, রাধা- কৃষ্ণ খুবই জনপ্রিয়। ১৯৬৬ সালে কাঠ দিয়ে দশমাথার রাবণ তৈরি করে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিলেন এখানকার এক শিল্পী শম্ভুনাথ ভাস্কর। আজও ওই পরিবার একই পেশায় যুক্ত। এরকম বহু নামি শিল্পী কারিগররা বছরের পর বছর ধরে বংশ পরম্পরায় এই শিল্পে যুক্ত। যে  শিল্প আজ দেশের বহু রাজ্যে স্থান করে নিয়েছে।

বিভিন্ন বাণিজ্যিক এক্সপো  থেকে শুরু গ্রামীণ মেলা সব জায়গায় কাঠের পুতুল বিক্রি হয়ে আসছে। বর্তমানে অনলাইনে বরাত পেয়ে যাচ্ছেন শিল্পীরা। ফলে দেশে বিদেশে চাহিদা অনেকটাই বেড়েছে। এমনকি ইদানীং থিমের মন্ডপ সজ্জার জন্য এখানকার শিল্পীরা ডাক পাচ্ছেন। কিন্তু এত কিছুর মাঝে জিআই তকমা  কারিগরদের দাবি বরাবর ছিল।

কারিগরদের সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে জিআই তকমা দেওয়া হলো কাঠের পুতুল শিল্পকে। শিল্পীরা বলেছেন, এই তকমা পাবার পর এই শিল্প কর্মের বাজার আরও বাড়বে। কি ধরনের লোগো হবে তাও ঠিক করে ফেলেছেন স্থানীয় শিল্পীরা। পূর্বস্থলী  উত্তরের বিজেপি বিধায়ক গোপাল চট্টোপাধ্যায় জানান, জিআই তকমা পাওয়ায় নতুনগ্রাম – এর কাঠের পুতুল আরও জনপ্রিয়তা পাবে। পরিকাঠামো নিয়ে কোনও  সমস্যা থাকলে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে বিধায়ক আশ্বাস দিয়েছেন।