অভিষেক ঘনিষ্ঠ দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলারই তদন্ত করবে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট। বিধাননগর পুর-নিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে থাকা তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। সেই মামলা ছাড়া বাকি সব মামলারই তদন্ত করবে সিট। দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এর আগে ১০টি অভিযোগ উঠেছিল। তার মধ্যে পুলিশ আটটি অভিযোগের মামলা দায়ের করেছে।
সূত্রের খবর, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট দেবরাজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন দল তৈরি করেছে। ৮ সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে। সেই দল দেবরাজের ঘনিষ্ঠদের তলব শুরু করেছে। বিধাননগর পুর-নিগমের ছজন প্রাক্তন কাউন্সিলার ও দেবরাজের একজন ছায়া সঙ্গী তৃণমূল নেতা রতন মৃধাকে নোটিস দিয়েছিল সিট। কিন্তু বিধাননগর পুর-নিগমের ছজন প্রাক্তন কাউন্সিলার সিটের হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
জানা গিয়েছে, তোলাবাজির অভিযোগের তদন্তে বিধাননগর পুরসভার ছজন প্রাক্তন কাউন্সিলারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। দেবরাজের ছায়াসঙ্গীকেও ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা কেউই বাগুইআটি থানায় হাজিরা দেননি। সূত্রের খবর, অভিযোগকারীদের থেকেই দেবরাজের এক ছায়াসঙ্গী ও ছজন তৃণমূল কাউন্সিলারের ব্যাপারে জানা গিয়েছিল। এদিকে তোলাবাজির মামলায় সমরেশ চক্রবর্তী, সম্রাট বড়ুয়া ও মাইকেল নস্কর আগেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এর মধ্যে দেবরাজের ছায়া সঙ্গী তৃণমূল নেতা রতন মৃধাকে নোটিস পাঠাল সিট।
উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারি এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষাকবচ না পেয়ে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন দেবরাজ চক্রবর্তী। মোবাইল ফোন বন্ধ করে লুকিয়ে ছিলেন পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ের কাছে ঝাড়খণ্ড সীমান্তের একটি রিসর্টে। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের প্রভাব খাটিয়েই ওই এলাকায় তিনি গা ঢাকা দিয়েছিলেন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। তদন্তের সময় প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ওই এলাকার তৃণমূল নেতাদের ফোন নম্বর ট্র্যাক করে খোঁজ মেলে দেবরাজের। তাঁকে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বারাসত আদালত।
সূত্রের খবর, তোলাবাজির মামলায় দেবরাজের হেফাজতের মেয়াদ শেষ হলেই তাঁর এবং অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে সম্পত্তি বহির্ভূত সম্পদ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত সিট শুরু করবে। সেক্ষেত্রে দেবরাজকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।




