প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরের ঠিক আগে সামনে এল উদ্বেগজনক তথ্য। মেলবোর্নে তাঁর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রচারমূলক ফেসবুক পোস্টের নীচে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ, আর তা নিয়েই তদন্তে নেমেছে অস্ট্রেলিয়ার ফেডারাল পুলিশ (Australian Federal Police)।
ঠিক কী সেই মন্তব্যে
মেলবোর্নের মার্ভেল স্টেডিয়ামে (Marvel Stadium) আগামী ৯ জুলাই প্রস্তাবিত মেলবোর্ন মিটস মোদী (Melbourne Meets Modi) সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রচারমূলক একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যের ঘরে আপত্তিকর ওই মন্তব্যটি পোস্ট করা হয়। আবু মুস্তাফা নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে করা সেই মন্তব্যে লেখা হয়, অনুষ্ঠানের সময় স্টেডিয়ামের ছাদ বন্ধ রাখাই ভাল, না হলে মৃত্যুর মুখেই পড়তে হবে তাঁকে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে এই তথ্য জানা গিয়েছে।
তদন্ত কতদূর
দ্য অস্ট্রেলিয়া টুডে (The Australia Today) জানিয়েছে, তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত আইপি অ্যাড্রেস (IP address) চিহ্নিত করে ফেলেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কিনা, তা আনুষ্ঠানিক ভাবে জানায়নি অস্ট্রেলীয় ফেডারাল পুলিশ, তদন্ত চলছে বলেই জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা একযোগে কাজ করছে বলেও জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ায় জনপ্রতিনিধি বা রাষ্ট্রনেতাদের বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে হুমকি দেওয়া অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। ফৌজদারি বিধির ৪৭৪.১৫ ধারায় কোনও ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দশ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ফেডারাল সাংসদদের বিরুদ্ধে দেওয়া সমাজমাধ্যমের হুমকি নিয়ে তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করেছে এই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা তদন্তকারী দল, যা ২০২৫ সালের অক্টোবরে বিশেষ ভাবে গঠন করা হয়েছিল সমাজিক সংহতির উপর আঘাত হানার মতো ঘটনা রুখতে।
মেলবোর্নে কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অনুষ্ঠান
আগামী ৮ থেকে ১০ জুলাই অস্ট্রেলিয়া সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, সেখানে অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের সঙ্গে বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা তাঁর। এরই অঙ্গ হিসেবে ৯ জুলাই সন্ধ্যায় মার্ভেল স্টেডিয়ামে আয়োজিত হচ্ছে মেলবোর্ন মিটস মোদী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান, যেখানে ইতিমধ্যেই প্রায় ছাব্বিশ হাজার মানুষ নিবন্ধন করিয়েছেন। বিকেল সাড়ে তিনটে থেকে দর্শকদের জন্য গেট খুলবে, কড়া নিরাপত্তা যাচাইয়ের পরেই প্রবেশাধিকার মিলবে বলে আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে। ভিক্টোরিয়া প্রদেশে থাকা বিপুল ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর কাছে এই অনুষ্ঠান একটি বড় সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা
উল্লেখ্য, মোদীর এই সফরের আগে থেকেই অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজ়িল্যান্ডে সক্রিয় খলিস্তানপন্থী সংগঠনগুলির কার্যকলাপ নিয়ে ভারত সরকারের তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সফরের আগে জানানো হয়েছিল, সন্ত্রাসবাদ এবং হিংসাত্মক চরমপন্থার বিরুদ্ধে দুই দেশেরই কড়া অবস্থান রয়েছে বলে ভারত আশাবাদী। এমন পরিস্থিতিতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পোস্টেই প্রকাশ্যে হুমকি আসার ঘটনা স্বাভাবিক ভাবেই নিরাপত্তা বলয়কে আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে।
অচেনা নয় এই আতঙ্ক
প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে এমন হুমকির ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের পাঠকদের কাছেও একেবারে অপরিচিত নয়। এ বছরের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রী মোদী যে ঝালমুড়ি বিক্রেতার দোকানে থমকে দাঁড়িয়েছিলেন, সেই ঘটনার জেরে খ্যাতি পাওয়া বিক্রেতা বিক্রম সাউকেও পরবর্তীকালে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা ফোন নম্বর থেকে একাধিক বার প্রাণনাশের হুমকি পেতে হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে তদন্তে নেমেছিল পুলিশ। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হওয়া জনপরিসরেই যে নানা সময়ে এমন হুমকি ছড়িয়ে পড়তে পারে, তার নজির রাজ্যেও রয়েছে।




