সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এ বছরই শেষ হয়ে যাবে কল্যাণ চৌবের সভাপতিত্বের মেয়াদ। বছরের শেষ দিকে সম্ভবত নতুন কাউকে এআইএফএফ সভাপতির পদে দেখা যাবে। কিন্তু ফেডারেশন সভাপতির পদ ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি কী করবেন? রাজনীতিতেই ফিরে যাবেন, নাকি ফুটবলেই থাকবেন?
শোনা যাচ্ছে, ফেডারেশনের দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পর কল্যাণ বাংলার ফুটবল প্রশাসনে আসবেন এবং বকলমে বাংলার ফুটবল চালাবেন তিনিই। এ পর্যন্ত পড়ে পাঠকের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে কী ভাবে তিনি তা করবেন? এই প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক।
বিশ্বস্ত সূত্রের খবর, রাজ্য ফুটবল সংস্থা আইএফএ-র সচিব পদে বসতে চলেছেন কল্যাণের স্ত্রী সোহিনী মিত্র চৌবে এবং তাঁকে সামনে রেখেই এবার বকলমে বাংলার ফুটবল প্রশাসন চালাবেন কল্যাণ। অর্থাৎ, সব কিছু ঠিকঠাক চললে তাদের ১৩৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম মহিলা সভাপতি পেতে চলেছে আইএফএ।
সম্প্রতি সোহিনীর প্রয়াত বাবা মোহনবাগানের প্রাক্তন সচিব অঞ্জন মিত্রকে এ বছরই মোহনবাগান রত্ন সন্মান দিচ্ছে ক্লাব। একই বছরে তাঁর কন্যা সোহিনী যদি বাংলার ফুটবলের প্রশাসনিক মসনদে বসেন, তা হবে এক ঐতিহাসিক ঘটনা।
সোহিনী দীর্ঘ সময় যাবৎ ফুটবল প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। গত প্রায় দশ বছর ধরে তিনি মোহনবাগান ক্লাবের কর্মসমিতির সদস্যা। কিন্তু ক্লাবে অনেকেরই অভিযোগ, ক্লাবে তাঁকে যথাযোগ্য সন্মান দেওয়া হয়নি। এত বছর ধরে কর্মসমিতির সদস্যা হিসেবে তো নয়ই, অঞ্জন মিত্রের কন্যা হিসেবেও তাঁকে প্রাপ্য সন্মান দেওয়া হয়নি। বছর দশেক মোহনবাগান কর্মসমিতিতে থাকা সত্ত্বেও তাঁকে ক্লাবের কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়নি।
এই দুইয়ের বাইরেও তাঁর পরিচয়, তিনি ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবের স্ত্রী। সে জন্যই এবার নিজের স্ত্রী-কে আইএফএ-র সভাপতি পদে বসানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। এই ব্যাপারে তিনি রাজ্যের শাসক দলের সাহায্যও পেতে চলেছেন বলে খবর।
যেহেতু রাজ্যের কোনো ক্রীড়া সংস্থায় সরাসরি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে না বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাসক দল, তাই আইএফএ-র সর্বোচ্চ পদে কল্যাণের বসার সম্ভাবনা বেশ কম। তাই তিনি নিজে চেষ্টা না করে স্ত্রী সোহিনীকে এই পদে বসানোর তোড়জোড় শুরু করেছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ও মোহনবাগান কর্তাদের মধ্যে এই নিয়ে নাকি কথাবার্তাও হয়েছে এবং মন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে সবুজ সঙ্কেতও দেওয়া হয়েছে বলে কল্যাণের ঘণিষ্ঠ মহলের খবর। বর্তমানে আইএফএ-র প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে দত্ত পরিবারের দুই সদস্যের হাতে। চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন সুব্রত দত্ত এবং সচিব পদে রয়েছেন অনির্বাণ দত্ত। তাঁদের ফেডারেশনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হবে, এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহলে খবর।
শেষ পর্যন্ত বর্তমান ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণের এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার। তবে তিনি যদি সফল হন, তা হলে আইএফএ-তে যে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করতে চলেছেন সোহিনী মিত্র চৌবে, এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।




