যে দিন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (AIFF) সভায় সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা, জামশেদপুর এফসি আসন্ন ইন্ডিয়ান সুপার লিগে (ISL) না খেললে তাদের জায়গায় কোন দলকে জায়গা দেওয়া হবে, ঠিক সে দিনই ইস্পাতনগরীর দলকে দেশের এক নম্বর ফুটবল লিগে ফিরে আসার আর্জি জানালেন ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে (Kalyan chaubey)।
টাটা গোষ্ঠীর কাছে আবেদন জানিয়ে কল্যাণ বলেছেন, সঙ্কটের মুখে থাকা ইন্ডিয়ান সুপার লিগ বা আইএসএল (ISL) থেকে জামশেদপুর এফসি-কে সরিয়ে নেওয়ার আচমকা সিদ্ধান্তটি যেন তারা পুনর্বিবেচনা করে।
সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চৌবে (Kalyan chaubey) বলেন, ‘টাটা যদি ফুটবলে, বিশেষ করে দেশের শীর্ষ স্তরের সিনিয়র ফুটবলে থেকে যায়, তা হলে এআইএফএফ খুশি হবে। এআইএফএফের (AIFF) আবেদন বা অনুরোধে যদি ওরা সিদ্ধান্ত বদল করে, তা হলে আমরা তাকেই স্বাগত জানাব। ফুটবলারদের স্বার্থে এবং ভারতীয় ফুটবলের বৃহত্তর স্বার্থে টাটার সিনিয়র ফুটবল লিগে থাকা উচিত— এটাই আমাদের আবেদন’।
কল্যাণের (Kalyan chaubey) আবেদন এল টাটার এই সিদ্ধান্তের প্রায় এক সপ্তাহ পরে। গত শুক্রবার টাটা জানিয়ে দেয় তারা আসন্ন আইএসএলে (ISL) তাদের দল নামাতে অপারক। ফলে এ বারের আইএসএল (ISL) থেকে নাম তুলে নিচ্ছে জামশেদপুর এফসি। আজ, বৃহস্পতিবারই ফেডারেশনের সভায় সিদ্ধান্ত হতে পারে জামশেদপুরের পরিবর্তে কাদের আইএসএলে (ISL) খেলার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।
এই ব্যাপারে গোয়ার চার্চিল ব্রাদার্স অনেকটাই এগিয়ে আছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারনা। গত মরসুমে আইএসএল (ISL) শুরুর আগে পর্যন্ত চার্চিল ব্রাদার্স কর্তৃপক্ষ আইএসএলে ঢোকার চেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু লিগের অন্য দলগুলির আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত তাদের নেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু এ বার একটি দল নিজেদের সরিয়ে নেওয়ায় তাদের পথ অনেক পরিস্কার হয়ে গিয়েছে।
চার্চিল ব্রাদার্স ক্লাবের মালিক চার্চিল আলেমাও, যিনি গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দু’বার লোকসভার সাংসদ এবং চার বার গোয়া বিধানসভার বিধায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪-২৫ মরসুমের আই-লিগের শেষ ম্যাচে রিয়াল কাশ্মীরের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে চার্চিল ব্রাদার্স লিগ তালিকার শীর্ষে থেকে মরসুম শেষ করেছিল। সেই সময় তাদেরই চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছিল।
কিন্তু দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইন্টার কাশী, যাদের চার পয়েন্ট কেটে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এআইএফএফের (AIFF) আপিল কমিটি, সেই শাস্তির বিরুদ্ধে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (সিএএস)-এ আবেদন করে। শেষ পর্যন্ত রায় যায় ইন্টার কাশীর পক্ষেই।
ফলে চার পয়েন্ট ফিরে পেয়ে ইন্টার কাশীই আই-লিগ চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ২০২৫-২৬ আইএসএল (ISL) -এ খেলার ছাড়পত্র পায়। আর সেই সুযোগ হাতছাড়া হয় চার্চিল ব্রাদার্সের। তার পরেই আইএসএলে খেলার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে গোয়ার ক্লাব। কিন্তু ব্যর্থ হয়। এ বার জামশেদপুরের সিদ্ধান্তের ফলে তাদের আইএসএলে (ISL) প্রবেশের পথ সুগম হয়ে গিয়েছে। তবে সে জন্য ফেডারেশনের সদস্যদের সম্মতি প্রয়োজন এবং সেই কারণেই বৃহস্পতিবার তাদের বৈঠক ডেকেছে ফেডারেশন।
টাটা গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জামশেদপুর এফসি-র আইএসএল (ISL) ছাড়ার সিদ্ধান্ত অনেক দিনের পরিকল্পনারই অংশ। সংস্থার মূল লক্ষ্য, অর্থাৎ তৃণমূল স্তরে ফুটবল উন্নয়নের কাজে আরও বেশি করে মনোযোগ দেওয়ার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। টাটা স্টিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট (কর্পোরেট সার্ভিসেস) ডি বি সুন্দর রামম-ও জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আইএসএলের (ISL) বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার কোনও সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনারও কোনও পরিকল্পনা তাদের নেই।
তবু কেন এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে (Kalyan chaubey) আশা ছাড়তে নারাজ, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তাঁর বিশ্বাস, দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পগোষ্ঠী টাটা হয়তো শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বদল করতে পারে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা যে কম, তা এখন প্রায় সবারই জানা হয়ে গিয়েছে। টাটা ভারতীয় ফুটবলের তৃণমূল স্তরে কাজ চালিয়ে যেতে চায়। ফুটবলার তৈরির কাজে মন দিতে চায়। তাই এই সি্দ্ধান্ত। ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদেরও সেই সিদ্ধান্তই মেনে নিতে হবে হয়তো।




