• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 3 July, 2026

মেট্রোপলিটনে তৃণমূল ভবনের দখল নিল ঋতব্রত শিবির

মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবন দখল ঋতব্রত শিবিরের। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাঁর অনুগামী বিধায়করা ওই কার্যালয়ে গিয়ে উপস্থিতি হন।

মেট্রোপলিটনে তৃণমূল ভবনের দখল নিল ঋতব্রত শিবির

Photo-ANI

মেট্রোপলিটনের তৃণমূল ভবন দখল ঋতব্রত শিবিরের। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তাঁর অনুগামী বিধায়করা ওই কার্যালয়ে গিয়ে উপস্থিতি হন। কার্যত অফিসের দখল নেন তাঁরা। এদিন মেট্রোপলিটনের অফিসে গিয়ে বসেছিলেন ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান-সহ একাধিক বিধায়ক। ওই অফিসেই এখন থেকে তাঁরা বসবেন বলে জানিয়েছেন।

ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস এবং সেই কারণেই মেট্রোপলিটনের দলীয় কার্যালয়ে তাঁদের অধিকার রয়েছে। এদিন কার্যালয়ের বাইরে নতুন একটি সাইনবোর্ডও লাগানো হয়, যেখানে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে অরূপ রায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির মালিকের সঙ্গেও চুক্তিপত্র স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। শনিবার থেকেই এখান থেকেই কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।

বিধানসভায় তৃণমূলের চিফ হুইপ আখরুজ্জামান বলেন, ‘এই কার্যালয়ের সঙ্গে তৃণমূলের আবেগ জড়িয়ে আছে। মালিকের সঙ্গে চুক্তিপত্রের সই হয়ে গিয়েছে। এই অফিস থেকেই এখন কাজ হবে।’ তৃণমূলের এই কার্যালয়ে নতুন তালা লাগানো হয়েছে। গেটের চাবি এখন তাঁদের কাছে থাকবে বলেই জানিয়েছেন আখরুজ্জামান।

এই ঘটনাকে ঘিরে কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সঙ্গে ঋতব্রত শিবিরের সংঘাত আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি দলের প্রতীক, সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এবং ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গেও বৈঠক করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন ঋতব্রত ও তাঁর অনুগামীরা।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক, একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী, কাউন্সিলর ও জেলা পরিষদের সদস্য তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন। যদিও তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা এখনও দলের পরামর্শদাতা হিসেবেই দেখতে চান। তাই কার্যালয়ে থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বা কাটআউটে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি।

অন্যদিকে, এই খবর পেয়েই মেট্রোপলিটনে তৃণমূল কার্যালয়ে পৌঁছন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। দরজায় তালা লাগানো বলে কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি কুণাল ও তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন। কুণাল ঋতব্রত শিবিরকে কটাক্ষ করে এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে জানিয়েছেন।কালীঘাটপন্থী তৃণমূল এই ঘটনাকে বেআইনি দখলদারি বলে অভিযোগ করেছে। কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকার ও পুলিশের প্রত্যক্ষ মদতে বহিষ্কৃত নেতারা দলীয় কার্যালয় দখল করেছেন।

মেট্রোপলিটনের এই ভবনের মালিক মন্টু সাহা। ভোটের পর তিনি তৃণমূলকে কার্যালয় খালি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। তাঁদের দাবি ছিল, দিনের পর দিন জোর করে বাড়ি আটকে রেখেছিল তৃণমূল। তবে ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য, ভবনের মালিকের সঙ্গে আলোচনা করেই তাঁরা কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন এবং ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে। দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই শিবিরের বিরোধ আরও তীব্র হল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।