অবশেষে মুখ খুললেন সেই টিনা সাহা। তোলাবাজির অভিযোগে ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তের বান্ধবী এই তকমার জেরে রীতিমত ক্রুদ্ধ তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি কারো বান্ধবী নন।
রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত সপ্তাহেই তাকে নিয়ে নদিয়ায় টিনার পৈতৃক বাড়িতে যান তদন্তকারী অফিসারেরা। সেখান থেকে তিন কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছিল। যার বর্তমান বাজারমূল্য সাড়ে চার কোটির কাছাকাছি।
স্থানীয়দের দাবি ছিল টিনা সসব্যসাচীর ঘনিষ্ঠ। যদিও পুলিশি তল্লাশি চলাকালীন তিনি বাড়িতে ছিলেন না। এই বিষয়টি নিয়ে আগে কোন মন্তব্য করেননি তিনি। এবারেই সাংবাদিকদের সামনে ক্রুদ্ধ হয়ে মুখ খোলেন তিনি।
টিনা সংবাদ মাধ্যমের সামনে জানিয়েছেন তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে রাজনীতিতে এসেছিলেন। সরাসরি বলেন, ‘দলের নেতারা যদি দুর্নীতিতে যুক্ত হয়ে পড়েন আর নীচের কর্মীরা যদি তাদের বান্ধবী হয়ে যান তাহলে সেটা ভুল।’
সোনা উদ্ধার প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি বাড়িতে ছিলাম না। সেই সুযোগে পুলিশ কাকে নিয়ে এসে তল্লাশি করেছে সেটা আইনের ব্যাপার। এটা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। তবে এভাবে বান্ধবী বলার তীব্র নিন্দা করছি। আমি একজন মহিলা ও শিক্ষিকা। সমাজে মাথা উঁচু করে চলি আমি।’
সব্যসাচীর ফ্ল্যাট ও ব্যাঙ্কের লকার থেকেও অনেক সোনা উদ্ধার করেছেন তদন্তকারী অফিসারেরা। অভিযোগ তোলাবাজির টাকায় তিনি সোনা কিনতেন। তাঁর ও তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রানী দত্তের ৫টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে।
সব্যসাচী দত্তের অবৈধ সম্পদের তদন্ত চলাকালীন পুলিশ জানতে পারে যে, তোলাবাজি ও ‘কালো টাকা’র অর্থে তিনি বিপুল পরিমাণ সোনা কিনেছিলেন। তদন্তকারীরা এর আগে তাঁর রাজারহাটের ফ্ল্যাট ও ব্যাঙ্কের লকার থেকে এই কেনাকাটার রসিদ এবং প্রায় ৩.৫ কেজি সোনা উদ্ধার করেছিলেন।
পরবর্তী তদন্তে জানা যায় যে, তিনি কেবল নিজের জন্যই সোনা কেনেননি, বরং নিজের প্রভাব খাটিয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগীদেরও সোনা কিনতে সাহায্য করেছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে, সোমবার গভীর রাতে নদিয়ার তেহট্টে তল্লাশি অভিযান চালায় বিধাননগর পুলিশ। সব্যসাচী দত্তের স্ত্রীকেও তলব করা হয়েছে। কিন্তু তিনি দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক। তবে সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে তার যোগ আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।




