• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 3 July, 2026

অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর, বাংলায় আসছে জনবিন্যাস কমিটি

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন

অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রীর, বাংলায় আসছে জনবিন্যাস কমিটি

Image: ANI

পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাসের পরিবর্তন রুখতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে চলেছে। এই বিষয়েই আগামী ৭ জুলাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকেও উচ্চপদস্থ কর্তারা অংশ নেবেন। পাশাপাশি দেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে অনুপ্রবেশের প্রভাব খতিয়ে দেখতে পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্য সফরে আসছে কেন্দ্রের জনবিন্যাস কমিটি।

বুধবার জোকায় ভারত সেবাশ্রম সংঘের হাসপাতালের এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে অনুপ্রবেশ রোধে ইতিমধ্যেই প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, গত ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনী (বিএসএফ)-এর প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ১২টি বিশেষ ‘হোল্ডিং স্টেশন’ গড়ে তোলা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই হোল্ডিং স্টেশনগুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সীমান্ত পেরিয়ে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষ ওই কেন্দ্রগুলিতে রয়েছেন। তিনি জানান, সীমান্তবর্তী থানাগুলি এখন বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে।

সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি জেলে পাঠানোর পরিবর্তে হোল্ডিং স্টেশনে রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের পর তাঁদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অনুপ্রবেশের প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে আগামী ১ আগস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জাতিগত জনগণনা শুরু হবে বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই জনগণনায় প্রথমবারের মতো ‘সেলফ ডিক্লারেশন’ বা স্ব-ঘোষণার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী,

২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে এই জনগণনার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, এই সমীক্ষার মাধ্যমে রাজ্যের প্রকৃত জনবিন্যাস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে এবং ভবিষ্যতে অনুপ্রবেশ রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

এদিকে, দেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ও অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রভাব খতিয়ে দেখতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। খুব শীঘ্রই এই কমিটি পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্য সফরে আসবে। সফরের আগে বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একটি প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সূত্রের খবর, কমিটির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত প্রশ্নমালা প্রস্তুত করা হয়েছে। রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের মূল্যায়ন করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাসের পরিবর্তনের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনেও এই বিষয়টি প্রধান ইস্যু ছিল। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির আসন্ন সফরকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ৭ জুলাইয়ের কেন্দ্র-রাজ্য বৈঠকের দিকেই এখন নজর প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের।