গত মার্চে টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করার পরও অধিনায়কত্ব খোয়াতে হয়েছিল সূর্যকুমার যাদবকে। এমনকী, দল থেকেও বাদ পড়তে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু ভারতীয় মহিলা দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের সময় খুব একটা ভাল যাচ্ছে না। তাঁর নেতৃত্বাধীন টিম ইন্ডিয়ার ফলও ভাল নয়। সদ্য মেয়েদের টি-২০ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালেও উঠতে পারেনি তারা। তা হলে এ বার হরমনপ্রীতকে অধিনায়কত্ব থেকে সরানো হবে না কেন? এই প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের প্রাক্তন মহিলা ক্রিকেট অধিনায়ক ডায়না এডুলজি।
সম্প্রতি আসন্ন এশিয়ান গেমসের জন্য ভারতের মহিলা দল ঘোষণা করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। টি-২০ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর কোচ অমল মজুমদার জানিয়েছিলেন, ভারতীয় দলে বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে চলেছে। কিন্তু দেখা যায় এশিয়ান গেমসের দলে তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়নি। এই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন ডায়না।
‘যদি আমরা ছেলেদের ক্রিকেটে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারি, তাহলে মেয়েদের ক্রিকেটেও সেই একই সাহস দেখানো উচিত।’, বুধবার ‘দৈনিক স্টেটসম্যান’-কে বলেন ডায়ানা। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘টি-২০ বিশ্বকাপে ভারতকে চ্যাম্পিয়ন করার পরও যদি সূর্যকুমার যাদবকে অধিনায়কত্ব থেকে সরানো এবং দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা হলে মেয়েদের টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত ব্যর্থ হওয়ার পর কেন হরমনপ্রীতকে নেতৃত্বে রাখা হবে? মেয়েদের ক্রিকেটের জাতীয় নির্বাচকেরা কেন সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না? এ বার তো অন্য কিছু ভাবতে হবে’।
ভারতের হয়ে ২০টি টেস্ট খেলা সত্তরোর্ধ ডায়ানার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ার শুরু হয়েছিল ১৯৭৬-এ এবং শেষ হয় ১৯৯৩-এ। সেই সময় এখনকার মতো এত বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেত না মহিলা ক্রিকেট দল। ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনে ২০টি টেস্টে ৪০৪ রান করেন এবং ৬৩টি উইকেট নেন তিনি। একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৪টি ম্যাচে ২১১ রান করেন ৪৬টি উইকেট নেন।
বর্তমানে মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (এমসিএ) উপদেষ্টা ডায়ানার মতে, ‘ভারতীয় ক্রিকেট দলের পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে এ বার ভাবা উচিত। যদিও হরমন আমার সবচেয়ে প্রিয় খেলোয়াড়দের একজন এবং আমি ওকে বরাবর সমর্থন করেছি, তবু অন্তত টি-২০ ক্রিকেটে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। ও খেলোয়াড় হিসেবে দলে থাকুক, কিন্তু নতুন অধিনায়ক নিয়ে ভাবা উচিত।‘

সম্প্রতি টি-২০ বিশ্বকাপে পাঁচটি ম্যাচে ১৪১ রান করেছেন হরমনপ্রীত। সবচেয়ে ভাল ইনিংসটি তিনি খেলেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে। সেই ম্যাচে ২৭ বলে ৫৬ রান করেন তিনি। ছ’টি বাউন্ডারি ও তিনটি ওভার বাউন্ডারিতে সাজানো তাঁর এই ইনিংস সত্ত্বেও অবশ্য ভারত সেই ম্যাচে ছয় উইকেটে হেরে যায় এবং বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে যায়। তার আগে তিনি যথাক্রমে ৩৬, ১২, ২৪ ও ১৩ রানের ইনিংস খেলেন।
ডায়ানার ধারণা, নেতৃত্বের চাপ আর নিতে পারছেন না হরমনপ্রীত। তাই এ বার ভারতীয় দলে কোনও নতুন অধিনায়ক প্রয়োজন। কিন্তু কাকে নতুন অধিনায়ক হিসেবে দেখতে চান তিনি? বলেন, ‘আমাদের এমন একজন অধিনায়ক দরকার, যার কৌশলগত ভাবনা আরও ভালো। বোলিং পরিবর্তন থেকে শুরু করে অধিনায়কত্বের আরও অনেক দিক রয়েছে। আমার মনে হয় হরমন এখন আর নেতৃত্বের বোঝা বইতে পারছে না।’
কেন পরিবর্তন প্রয়োজন, তার ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে হবে, সে জন্য এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। আমার মতে, এখনই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। আমরা চাই, দল ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলুক। গত বছর বিশ্বকাপে সাফল্যেকেই যেন সেরার মাপকাঠি ধরা না হয়। সেক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ নিতেই হবে। মেয়েদের জাতীয় দলের এই পতন এখনই থামাতে হবে। বিশ্বকাপ জয়ের পর পরই সূর্যকুমার যাদবকে অধিনায়কত্ব থেকে সরানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত যদি নেওয়া যেতে পারে, তা হলে মহিলাদের ক্রিকেটেও সে রকমই সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না কেন?’
দলের হেড কোচ অমল মজুমদারকেও সরানো উচি বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘আমার মনে হয় না উনি এর চেয়ে বেশি কিছু আর দিতে পারবেন। এখন আমাদের এমন একজন দরকার, যিনি দলের মনোবল বাড়াতে পারবেন এবং আরো কঠোর হবেন। এমন একজন দরকার, যিনি মেয়েদের কমফর্ট জোন থেকে বের করে আনতে পারবেন‘।
বিভিন্ন ফরম্যাটের জন্য আলাদা দলও গড়া উচিত বলে মনে করেন ডায়ানা। বলেন, ‘আমাদের আলাদা টি-২০ দল নিয়ে ভাবতে হবে। সব ফরম্যাটে একই দল খেলাতে পারি না। অতিরিক্ত চাপ খেলোয়াড়দের ফিটনেসের ওপর প্রভাব ফেলছে। ফিটনেস ভালো নেই বলে খুব খারাপ ফিল্ডিং হচ্ছে। আমাদের হাতে অনেক ক্রিকেটার আছে, যাদের বিশেষভাবে টি-২০ ক্রিকেটের জন্য তৈরি করা যায়। আগামী বছর ভারত অলিম্পিক্সে খেলবে। এটা একটা বড় সুযোগ। শুধু বোর্ডের কাছে অনুরোধ, অলিম্পিক্সের আগে যেন দলে পরিবর্তন করা হয়’।




