প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার প্রণব রায়ের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরূপের অভিযোগ দায়ের করা হল আদালতে। অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক জালিয়াতিতে জড়িত থাকার দাবি তুলে অবিলম্বে তাঁকে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা সিএবি-র অ্যাপেক্স কাউন্সিল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি পঙ্কজ রায়ের পুত্র প্রণবের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন ড. শ্যামল দাস, যিনি নিজেকে সমাজসেবী বলে দাবি করেছেন এবং জানিয়েছেন কোনও স্থানীয় ক্রিকেট সংস্থা বা ক্লাবের সঙ্গে জড়িত নন তিনি।
প্রণবের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, একটি অস্তিত্বহীন সংস্থা নিজেদের সিএবি-র অনুমোদিত ও নিবন্ধিত ক্লাব বলে দাবি করে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বেআইনিভাবে সিএবির অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং এই প্রতারণার মূল অভ্যন্তরীণ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন প্রণব রায় এবং প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার ষঢ়যন্ত্রে ভূমিকা নিয়েছেন।
সম্প্রতি সিএবি-র এক কর্মীর বিরুদ্ধে একটি মানহানির মামলা করেন প্রণব। সমাজমাধ্যমে ওই সিএবি কর্মী তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়েছেন বলে অভিযোগ করে দশ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন প্রণব। ওয়াকিবহাল মহলে অনেকের ধারণা, তাঁকে পাল্টা চাপে ফেলতেই এই মামলা করা হয়েছে।
কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে মামলাকারীর পরিচয় নিয়ে। ড. শ্যামল দাস নামের এই ব্যক্তি নিজেকে সমাজসেবী বলে দাবি করেছেন। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, কোনও স্থানীয় ক্রিকেট সংস্থা বা ক্লাবের সঙ্গে জড়িত নন তিনি।
একটি প্রেস নোটে তিনি মন্তব্য করেন, “যাঁর উপর ক্রিকেট প্রশাসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ও আস্থা রাখা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধেই যদি একটি ভুয়ো সংস্থাকে বৈধতা দিয়ে জনসাধারণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অ্যাপেক্স কাউন্সিলে তাঁর উপস্থিতি সিএবির সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকেই গুরুতরভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।”
অভিযোগ, প্রকৃত ‘মোহনলাল ক্লাব’- এর নথিবদ্ধ ঠিকানা বাগবাজার স্ট্রিটের। কিন্তু গৌরীবাড়ি লেনের একটি ঠিকানায় একটি অস্তিত্বহীন সংস্থা নিজেদের সিএবি-র অনুমোদিত ও নিবন্ধিত ক্লাব বলে দাবি করেছে। চার বছর ধরে বেআইনিভাবে সিএবির অনুদানের অর্থও আত্মসাৎ করেছে বলে নালিশ জানানো হয়েছে। এই প্রতারণার সঙ্গে প্রণব রায় জড়িয়ে রয়েছেন এবং এই সংস্থার হয়ে তিনি প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ।
এই অভিযোগের জবাব দিয়ে প্রণব রায় মঙ্গলবার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা মিথ্যা, এই ভিত্তিহীন, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর অভিযোগগুলি অস্বীকার করছি। এই অভিযোগগুলি সুপরিকল্পিত, প্রতিহিংসাপরায়ণ, প্রতিশোধমূলক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়। এর উদ্দেশ্য আমার সুনাম নষ্ট করা, আমার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করা।“
যে মোহনলাল ক্লাবকে ঘিরে এই অভিযোগ জানানো হয়েছে, সেই ক্লাবের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “আমি শুধুমাত্র মোহনলাল ক্লাবের একজন সদস্য। অভিযোগে যে সময়কালের কথা বলা হয়েছে, সেই সময় আমি ক্লাবের কোনও পদাধিকারী ছিলাম না। অভিযোগগুলির সময় এবং ধরন থেকেই স্পষ্ট যে, আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে মানহানি করার উদ্দেশ্যেই এগুলি সামনে আনা হয়েছে। ক্রিকেটকে জীবন উৎসর্গ করার পর এই ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আমার বিরুদ্ধে এই মানহানিকর অভিযোগ যে বা যাঁরা এনেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ আমিও নিতে পারি। বিষয়টি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সামনেও পেশ করব।”
সিএবি-র পক্ষ থেকে এই ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। অভিযোগকারী যেহেতু সিএবি-র কেউ নন, তাই রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা এই বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চায় না। কিন্তু সিএবি-র অন্দরমহল থেকে সংস্থার গোপন আর্থিক তথ্য কী ভাবে একজন তৃতীয় ব্যক্তির হাতে পৌঁছল, এই প্রশ্নও উঠছে।




