গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার বৃষ্টিতে একেবারে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। টানা ভারী বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে সমতল সব জায়গাই বিপন্ন। অনেক জায়গায় যেমন নদীর জলস্তর বেড়েছে, তেমন ধস নেমে অনেক জায়গায় রাস্তাও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের তিস্তা, রায়ডাক, বালাসন, জলঢাকা ও সংকোশ নদীর বাঁধ ও পাড়ের ৪৮টি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেচদপ্তর সোমবার রাজ্য সরকারের কাছে এমনই একটি রিপোর্ট পাঠিয়েছে।
সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, নদী বাঁধ ও পাড়ের অনেক অংশ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি কোথাও আবার নতুন শাখা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও সোমবার ফের আরও চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ওই গ্রামের শতাধিক পরিবারকে ত্রাণ শিবিরে পাঠানো হয়েছে। তবে সোমবার পাহাড়ে তেমন বৃষ্টির দেখা মেলেনি। এর ফলে তিস্তা, রায়ডাক, বালাসন, জলঢাকা ও সংকোশ নদীর জলস্তর অনেকটাই কমেছে। মাথাভাঙার ছাট কাঠাবাড়িতে মানসাই নদীর বাঁধের কিছু অংশ ভেঙে গিয়েছে।
অন্যদিকে, কেদারহাটে গ্রামীণ রাস্তার কাছে জলঢাকা নদীর ১২৫ মিটার পাড়, নাটাবাড়ি, দেওচাড়াই, দ্বারিকামারিতে গদাধর নদী পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্য শালবাড়িতে নোনাই নদীর স্রোতের তোড়ে গ্রামীণ রাস্তা ভেসে গিয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলার ক্ষতিগ্রস্ত নদীবাঁধ ও পাড়ের সংখ্যা আটটি। এর মধ্যে আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকে তোর্সা নদীর বাঁধ, মাদারিহাটে পাগলি নদীর বাঁধ গুরুত্বপূর্ণ।
এর পাশাপাশি দার্জিলিং জেলার খড়িবাড়ির মনসাজোতে খেমচি নদী, বাতাসিতে পাগলাঝোরা, মাটিগাড়ার লালসারায় বালাসন নদীর ভাঙন বিশাল রূপ ধারণ করেছে। সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মেখলিগঞ্জে তিস্তা নদীর সংরক্ষিত এবং এনএইচ ৩১-এর কাছে জলঢাকা নদীর সংরক্ষিত ও অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির জেরে চলতি মরশুমে অনেক নদী বাঁধ ও পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিস্তার জলে প্লাবিত ক্রান্তির চ্যাংমারি থেকে ১০০ জনকে প্রশাসনের তরফে নিরাপদ জায়গায় পাঠানো হয়েছে। হলদিবাড়িতে নতুন চ্যানেল তৈরি হয়েছে। কিন্তু সেখানে ক্রমাগত বাঁধ আগাত হানছে। এর জন্য সেখানে একটি ডিফ্লেক্টর তৈরির ব্যবস্থা করা হবে বলে সেচদপ্তর সূত্রের খবর। গোটা পরিস্থিতির উপরে সেচদপ্তর নজর রাখছে বলে জানা গিয়েছে।




