• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 30 June, 2026

জাপানের বিরুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতিতেও কেন নেইমারকে নামতে দিলেন না আনসেলোত্তি? ব্যাখ্যা দিলেন উচ্ছ্বসিত ব্রাজিল কোচ

ম্যাচের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আনসেলোত্তি জানান, নেইমারকে নামানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন তিনি

জাপানের বিরুদ্ধে কঠিন পরিস্থিতিতেও কেন নেইমারকে নামতে দিলেন না আনসেলোত্তি? ব্যাখ্যা দিলেন উচ্ছ্বসিত ব্রাজিল কোচ

সোমবার রাতে জাপানের বিরুদ্ধে নাটকীয় জয় পেয়ে শেষ ষোলোয় উঠে পড়লেও ব্রাজিল সমর্থকেরা খুশি নন কোচ কার্লো আনসেলোত্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তের গোলে ব্রাজিলের এই দুর্দান্ত জয় ছাড়াও ম্যাচের অন্যতম বড় চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে নেইমারের অনুপস্থিতি। দীর্ঘক্ষণ ওয়ার্ম-আপ করিয়েও শেষ পর্যন্ত তাঁকে মাঠে নামাননি ব্রাজিলের কোচ আনসেলোত্তি।

কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। ম্যাচের আগে তো তিনিই বলেছিলেন, নেইমার আগের চেয়ে অনেক বেশি ফিট, আরও বেশিক্ষণ মাঠে থাকার মতো অবস্থায় আছেন তিনি। তা সত্ত্বেও কেন নেইমারকে এ দিন মাঠে দেখা গেল না? সমর্থকেরা এই প্রশ্ন তুলেছেন বারবার। ম্যাচের পরে সাংবাদিকরাও তোলেন সেই একই প্রশ্ন। এবং এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ইতালীয় কোচ।

হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে কাসেমিরোর গোলে সমতা আসে। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত যখন সবাই ধরেই নিয়েছে, ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়াতে চলেছে, ঠিক তখনই, সংযুক্ত সময়ে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির জয়সূচক গোলে রোমাঞ্চকর জয় তুলে নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আনসেলোত্তি জানান, নেইমারকে নামানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন তিনি। কিন্তু কেন? ব্রাজিলের কোচ বলেন, ‘নেইমারকে নামানোর পরিকল্পনা ছিল। আমরা ভেবেছিলাম ম্যাচটা যদি অতিরিক্ত সময়ে যায়, তাহলে ওকে খেলাব। কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমরা গোল করে ফেলি। তাই আর ওকে নামানোর প্রয়োজন হয়নি।’

এ দিন ব্রাজিলের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছিল এশিয়ার অন্যতম সেরা দল জাপান। ২৯ মিনিটের মাথায় কাইশু সানোর দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর তারা প্রতিপক্ষকে নিজেদের বক্সের মধ্যে কার্যত ঢুকতেই দেয়নি। হন্যে হয়ে জাপানের গোল এরিয়ায় ঢোকার অনেক চেষ্টা করেও সফল হননি ভিনিসিয়াস, কুনহা, রায়ান-রা। জাপানের রক্ষণের দুর্ভেদ্য প্রাচীরে ফাটল ধরাতে তাদের বেশ বেগ পেতে হয়।

তবু চেষ্টা ছাড়েনি এবং জাপানি ওয়াল-এ ভাঙন ধরানোর সব রকম কৌশল অবলম্বন করে তারা। কত রকম ভাবে আল্ট্রা ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলা একটা দলের বিরুদ্ধেও গোল করা যায়, সারা বিশ্বের কোচ, ফুটবলাররা সেই শিক্ষা নিতে পারেন এই ম্যাচের ভিডিও থেকে। আর ব্রাজিলের মতো আগ্রাসী আক্রমণাত্মক দলকে কী ভাবে প্রবল চাপে ফেলতে হয়, তাও শেখা যায় এই ম্যাচে। দুই কোচের মস্তিষ্কের লড়াই-ই এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় শেখার বিষয় হয়ে রইল।

বহু চেষ্টার পর টানা দু’বার অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় ব্রাজিল। তখনই তারা গোলের দরজা দেখতে শুরু করে দেয়। অপেক্ষা ছিল সেই দরজা খোলার। তৃতীয়বারের চেষ্টায় জোরালো হেডে সেই দরজা খুলে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান কাসেমিরো। গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের নিখুঁত ক্রস থেকে গোলটি করেন তিনি। জাপানের গোলরক্ষক জিয়ন সুজুকি আঙুলের ডগা দিয়ে দুর্দান্ত সেভ না করলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ব্রাজিলকে এগিয়ে দিতে পারতেন ভিনিসিয়াস। কিন্তু তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

সমতায় ফেরার পর ব্রাজিল বুঝে যায় প্রতিপক্ষের দুর্বলতার জায়গাটা ঠিক কোথায়। শক্তিশালী ও দুর্বল দলের মধ্যে সুক্ষ্ম তফাৎটা ঠিক এখানেই। সেই দুর্বল জায়গাকে কাজে লাগিয়েই লাতিন তারকারা এ বার ‘সামুরাই ব্লু’ বাহিনীকে প্রবল চাপে ফেলে দেয়। ঘন ঘন আক্রমণের চাপে ও আঘাতে ক্রমশ দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়া জাপান ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আর চাপ ধরে রাখতে পারেনি।

ব্রুনো গিমারায়েসের নিখুঁত পাস থেকে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি গোলকিপার সুজুকিকে পরাস্ত করে যখন বল জালে জড়িয়ে দেন, তখনই হিউস্টনের ‘স্পেস সিটি’ স্টেডিয়ামজুড়ে উচ্ছ্বাসের বিস্ফোরণ ঘটে।ব্রাজিলের এই অসাধারণ পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট কোচ আনসেলোত্তি। কোচ বলেন, ‘এই জয় আমাদেরই প্রাপ্য ছিল। গোল হজম করেছিলাম ঠিকই, কিন্তু আমাদের ছেলেরা কেউ ধৈর্য হারায়নি। প্রথমার্ধেও আমরা ভালো খেলেছিলাম। খুব ভালো একটা ম্যাচ হয়েছে।’

ইতালীয় কোচ জানিয়েছেন, ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর কৌশলগত পরিবর্তন। বিশেষ করে তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিককে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত ব্রাজিলের আক্রমণে নতুন গতি এনে দেয় বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারিনি। বিরতির পর কিছু পরিবর্তন করি। এন্দ্রিক মাঠে নামার পর আমাদের আক্রমণে অনেক বেশি শক্তি ও তীব্রতা আসে। সেই পরিবর্তনই ম্যাচের গতি বদলে দেয়।’

জাপানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘জাপান খুবই সংগঠিত এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী একটি দল। ওরা আমাদের কাজটা কঠিন করে তুলেছিল। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আমরা আরও বেশি ছড়িয়ে গিয়ে খেলেছি এবং বক্সে বেশি ক্রস তুলেছি। সেই কৌশলই শেষ পর্যন্ত কাজে লেগেছে।’
ব্রাজিল কোচের মতে, দল কখনও আত্মবিশ্বাস হারায়নি। তিনি বলেন, ‘আমরা নিজেদের ওপর আস্থা রেখেছিলাম যে ম্যাচে ফিরতে পারব। খেলোয়াড়রা ধৈর্য ধরে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করেছে। শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসেরই পুরস্কার পেয়েছি আমরা।’

যাঁর গোলে জেতে ব্রাজিল, সেই মার্তিনেল্লির প্রশংসাও করেন আনসেলোত্তি। তাঁর কথায়, ‘বেঞ্চ থেকে নেমে মার্তিনেল্লি অসাধারণ খেলেছে। এই ধরনের ফুটবলাররাই কঠিন ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।’এই জয়ের ফলে ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করেছে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে হয় আইভরি কোস্ট অথবা নরওয়ে।