বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরই শুরু জোড়াফুলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬০ জন ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে চলে গিয়েছেন। লোকসভার ২০ জন সাংসদ নাম লিখিয়েছে এনসিপিআই দলে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে বেইমান বলে তোপ দাগছেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়করা। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই সমাজমাধ্যমে বিস্ফোরক পোস্ট করলেন তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক তথা দলের উত্তর কলকাতা জেলার সভাপতি কুণাল ঘোষ। এই আবহে দলের হেরে যাওয়াটা ভাল বলেই মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে এই মন্তব্য সমাজমাধ্যমে এখন ছড়িয়ে পড়েছে। তা নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে চলছে কাটাছেঁড়া। অনেকেই মনে করছেন কুণাল এবার শিবির বদল করতে চলেছেন। তাই জন্য এমন পোস্ট করেছেন সমাজমাধ্যমে। দীর্ঘ পোস্ট করে বিধায়ক কুণাল লিখলেন, ‘তৃণমূল ভোটে হারায় ভালই হয়েছে।’ এই কথাটাই এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। যদিও কুণাল ঘোষ দলের পাশে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি নিজের গভীর আনুগত্যের কথা বারবার বলেছেন। আবার দলের নানা ভুল-ত্রুটি নিয়ে সর্বসমক্ষে কাটাছেঁড়া করতেও পিছপা হননি। কুণালের বার্তা, তিনি নেত্রীর পাশে আমৃত্যু থাকবেন। কিন্তু দলের সাংগঠনিক স্তরে যদি একের পর এক ভুল চলতে থাকে, তবে সেই অন্যায় দেখেও তিনি কখনও চোখ বুজে বসে থাকবেন না।
4 May তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার পরাজিত হওয়ার পর খারাপ লেগেছিল। নিজের দল হারলে যেমন লাগে। বেলেঘাটায় আমার জয়টাও তেমন আনন্দ দিতে পারেনি।
কিন্তু আজ মনে হচ্ছে যা হয়েছে, ভালো হয়েছে। যদি তৃণমূল জিতত, এই বিশ্বাসঘাতকরাই স্তাবক হয়ে দিদিকে ঘিরে রাখত; যারা সুবিধেবাদী, তারাই বন্ধু সেজে…— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) June 29, 2026
অন্যদিকে দল ছেড়ে যাওয়া বিধায়ক-সাংসদদের নিশানা করে বারবার ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও বেইমান বলে আক্রমণও শানিয়েছেন। তাহলে হঠাৎ তৃণমূল ভোটে হারায় ভাল হয়েছে বললেন কেন? বেলেঘাটার বিধায়কের দাবি, তৃণমূল আজ হেরেছে বলেই প্রকৃত মানুষ চেনা যাচ্ছে। তাই সমাজমাধ্যমে কুণাল লিখেছেন, ‘৪ মে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার পরাজিত হওয়ার পর খারাপ লেগেছিল। নিজের দল হারলে যেমন লাগে। বেলেঘাটায় আমার জয়টাও তেমন আনন্দ দিতে পারেনি। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে যা হয়েছে, ভাল হয়েছে। যদি এই নির্বাচনে তৃণমূল জিতে যেত, তবে এই সমস্ত মেকি ও বিশ্বাসঘাতক নেতারাই আবার বড় বড় স্তাবক সেজে দিদিকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখত।’
তাছাড়া বিধানসভায় ৮০ জন বিধায়ক একসঙ্গে সরকারকে যে চাপে ফেলা যেত সেটা দল ভেঙে যাওয়ায় করা যাচ্ছে না। যেটুকু লড়াই করতে হচ্ছে তা কম সংখ্যা নিয়ে করতে হচ্ছে। যেটা একপ্রকার অসম লড়াই। তাই বেলেঘাটার বিধায়ক উষ্মাপ্রকাশ করে সমাজমাধ্যমে লিখলেন, ‘কিছু চোরডাকাত, যারা নিজেদের বাঁচাতে সাধু সাজছে, তারা আরও লাগামছাড়া চুরি করত। দলের কারুর কারুর ঔদ্ধত্য ও অহংকার আরও বাড়ত। কিছু দলে ঢোকা ক্রিমিনাল বিরোধীদের উপর বাড়াবাড়িরকম দমনপীড়ন করত। দলের একাংশকেও ছাড়ত না। কিছু অরাজনৈতিক সেলিব্রিটি অকারণে মঞ্চ আলো করে বসে জনপ্রতিনিধির সুবিধে নিত একাংশের। পুলিশ, আমলা, বুদ্ধিজীবী, শিল্পমহল, হাফবুদ্ধিজীবী কিছু মুখোশধারী দলটাকে আরও ব্যবহার করে নিজেদের অঙ্ক সাজাত। এবং প্রকৃত কর্মী, সংগঠক, শুভানুধ্যায়ীরা উপেক্ষিত থাকতেন। বুকভরা অভিমান নিয়ে দমবন্ধ অবস্থায় পিছনের বেঞ্চে বসে দলটা করতেন। ভোটের ফল হয়তো সাময়িকভাবে আমাদের হাত থেকে প্রশাসনিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু এর একটা ইতিবাচক দিকও রয়েছে। এই ধাক্কাটা দলের সমস্ত আবর্জনা সাফ করে দিয়ে আসল ও নকল মানুষ চিনতে সাহায্য করেছে। আমাদের মাথার ওপর এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন। আর সর্বত্র দলকে বুক দিয়ে আগলানোর জন্য রয়েছেন দলের জন্য প্রাণ লড়িয়ে দেওয়া প্রকৃত ভালবাসার কর্মীরা। তৃণমূল কংগ্রেস মাটির লড়াইয়ে বিশ্বাস করে, তাই আগামী দিনেও লড়াই জারি থাকবে।’




